
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক:
উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ, শামসুল উলামা হযরত আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী ছাহেব কিবলাহ (র.)-এর ঈসালে সাওয়াব মাহফিলে গতকাল ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ বক্তব্য রাখতে গিয়ে হযরত আল্লামা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী ফুলতলী বলেন, ইতোমধ্যে বৃহত্তর সিলেটের বহু সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাথেও তাঁর টেলিযোগাযোগ হয়েছে। সকলকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন—রাজনীতিতে তাঁদের কোনো উচ্চাবিলাষ নেই।
তিনি বলেন, “আমরা ফুলতলী ছাহেবের আওলাদ। চাইলে এইবার জকিগঞ্জ–কানাইঘাট (সিলেট-৫) আসনে শতভাগ পাশ করা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল। কিন্তু আমরা প্রমাণ করেছি, আমরা গদির জন্য নয়, দীনের খেদমতের জন্য রাজনীতিতে গিয়েছিলাম। প্রয়োজন হলে আরও শতবার যেতেও প্রস্তুত আছি।”
সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি অত্যন্ত সম্মানের সাথে বলেন, “আপনারা নির্বাচনে পাশ করবেন বা ফেল করবেন, নির্বাচন শেষে নিজ নিজ রাজপ্রাসাদে ফিরে যাবেন। কিন্তু আমাদের রয়েছে শত শত দ্বীনি প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, ইমাম, তালামিয, আল-ইসলাহসহ একটি বিশাল কওম। এই কওমের পাহারাদারী করা আমাদের দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, কওমকে জাগ্রত ও সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে তিনি কিছু প্রার্থী নির্বাচনের জন্য সিলেক্ট করেছিলেন, অনিবার্য কারণে পরবর্তীতে সবার ক্ষেত্রেই সে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হয়েছে। এ নিয়ে কেউ কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, তারা নাকি বিভিন্ন দলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছেন। তিনি বলেন, “আন্তরিকভাবে বা পরামর্শক্রমে কিছু হলে সেটা ভিন্ন কথা। কিন্তু আল্লাহর এই সৈনিকদের হুংকার দিয়ে, প্রোপাগান্ডা ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে দমিয়ে রাখার কোনো শক্তি এ দেশে নেই।”
আল্লামা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “এই দেশ আউলিয়াকেরামের দেশ। এ দেশের কর্তৃত্ব আল্লাহ তায়ালা আপনাদের হাতে দেননি; ফরেজগারদের হাতে দিয়েছেন। এই দেশে দ্বীনদাররা বেঁচে থাকলে ইসলাম বেঁচে থাকবে। দ্বীনদারদের দ্বারাই এই দেশ পরিচালিত হওয়া—এটাই দেশের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।”
তিনি দ্বীনি অবক্ষয় ও বদ-আখলাকের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি আকীদা সংগ্রামের সাথে সাথে আখলাক সংরক্ষণ করাও জরুরি। আজ কিছু অসৎ চরিত্রবান ব্যক্তি ইসলামের নামে মাঠ গরম করছে, ইসলামকে কলুষিত করছে—এদেরকে স্তম্ভিত ও প্রতিহত করা কওমের দায়িত্ব। তিনি বলেন, “মওদুদিবাদীরা অতীতে যেভাবে ভ্রান্ত আকীদা ছড়িয়েছিল, বর্তমান সময়ে তারা আখলাকের উপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে। মব সংস্কৃতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে বেয়াদব থেকে আরও বেয়াদব বানানো হচ্ছে। কোনো বেয়াদবকে ইসলাম নিয়ে খেলতে দেওয়ার সুযোগ আমরা দিতে পারি না।”
দীর্ঘদিন মাহফিল থেকে দূরে থাকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি আত্মগোপনে ছিলাম না, কারো ভয়ে ভীত ছিলাম না। সব সময় নিজ বাড়িতেই ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত ছিলাম। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা থাকায় বাইরে বের হইনি। সে সময় যদি আমার উপর সামান্য ঘটনাও ঘটত, তা থেকে বড় ফিতনার সৃষ্টি হয়ে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারত। মানুষকে বাঁচানো, আমার মসলক ও সিলসিলা রক্ষা করতেই আমি বাইরে বের হইনি।”
সবশেষে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমার কোনো কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হলে একটির বদলে শত মামলা দেওয়া হবে। আমরা দেখে নেবো, কোন মায়ের পুত আমাদের উপর মামলা করে।” তিনি আল্লাহর হেফাজত কামনা করে বক্তব্য শেষ করেন।