
পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেটের বিভিন্ন আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের নগদ অর্থ ও বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণে রয়েছে বড় ধরনের তারতম্য। প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে এমন চিত্র সামনে এসেছে।
সিলেট-১ (সদর–নগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৬৪ লাখ ২৮ হাজার ১৪৭ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী মুক্তাদির বা তার স্ত্রীর কাছে কোনো বৈদেশিক মুদ্রা নেই। তবে তার স্ত্রীর কাছে নগদ অর্থের পরিমাণ ১ কোটি ২০ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮১ টাকা।
সিলেট-২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তাহসিনা রুশদির লুনার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৪৬৪ টাকা। সাবেক সরকারি চাকরিজীবী লুনা তার ছেলের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে নিয়েছেন আরও সাড়ে ১৩ লাখ টাকা।
সিলেট-৩ (দক্ষিণ সুরমা–ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমএ মালিকের কাছে নগদ বাংলাদেশি ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ লাখ ৯৮ হাজার ৩৮ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ টাকা, ৭১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার এবং ৬ হাজার ৭১০ ব্রিটিশ পাউন্ড। হলফনামায় তিনি বর্তমান পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন ‘কিছুই না’, আর পূর্বের পেশা ‘প্রবাসী শ্রমিক’। তার স্ত্রীর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে মাত্র ১ লাখ টাকা।
সিলেট-৪ (গোয়াইনঘাট–কোম্পানীগঞ্জ ও জৈন্তাপুর) আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীর কাছে নগদ ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৭৭৪ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে ৫ হাজার ৯১৮ ডলার ও ১ হাজার ৮৩১ পাউন্ড। তবে তার স্ত্রী শামা হকের কাছে নগদ ও বৈদেশিক মুদ্রা মিলিয়ে অর্থের পরিমাণ ১৭ কোটি ৯৬ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪৯ টাকার সমপরিমাণ, যার বড় অংশই বৈদেশিক মুদ্রা।
সিলেট-৫ (কানাইঘাট–জকিগঞ্জ) আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী ঘোষণা না করলেও মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে দল থেকে বহিষ্কৃত সাবেক নেতা মামুনুর রশীদের (চাকসু মামুন) কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ৫৮ লাখ ৪৩ হাজার ৫৮১ টাকা। তার স্ত্রীর কাছে কোনো নগদ অর্থ নেই এবং দু’জনের কারও কাছেই বৈদেশিক মুদ্রা নেই।
সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি মনোনীত দুই প্রার্থীর মধ্যে আইনজীবী এমরান আহমদ চৌধুরীর কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১৬ লাখ ৪ হাজার ৫৩ টাকা। তার স্ত্রীর দুটি ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে যথাক্রমে ২১ হাজার ১৯৩ টাকা ও ৪৮৩ টাকা।
অন্যদিকে ব্যবসায়ী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর কাছে নগদ অর্থ মাত্র ৬৭ হাজার ১৮৪ টাকা। তবে তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ১১ লাখ ২৫ হাজার ৫০৪ টাকা। এই দম্পতির কারও কাছেই বৈদেশিক মুদ্রা নেই।