
মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলায় আয়োজিত এক বিশাল তরবিয়ত ও দু’আ মাহফিলে উস্তাযুল উলামা ওয়াল মুহাদ্দিসীন, মুর্শিদে বরহক হযরত আল্লামা ইমাদ উদ্দীন চৌধুরী বড় ছাহেব কিবলাহ ফুলতলী বলেছেন, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করা দানের প্রকৃত প্রতিদান দুনিয়ার চেয়ে আখিরাতে অনেক বেশি। দানের কিছু প্রতিদান কবরে পাওয়া গেলেও এর পূর্ণ প্রতিদান মিলবে আখিরাতে। তবে দানের সঙ্গে যদি লোক দেখানোর মানসিকতা যুক্ত হয়, তাহলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। শরিয়তের পরিভাষায় এ লৌকিকতাকে ‘রিয়া’ বলা হয়, যা মূলত ‘শিরকে খফি’ বা গোপন শিরক।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাতে রাজনগর উপজেলার টেংরা বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ আনজুমানে আল-ইসলাহ ও তালামীযে ইসলামিয়া ৬ নম্বর টেংরা ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
আল্লামা ফুলতলী আরও বলেন, অভাবগ্রস্তদের হুইল চেয়ার, ক্রাচ, সেলাই মেশিন, কম্বল ও ছাগল দানের মাধ্যমে যারা মানুষের কষ্ট লাঘব করছেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহ পাক তাদের কষ্ট দূর করবেন। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, এতিম ও বিধবাদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার চেষ্টা আল্লাহর পথে জিহাদ করার শামিল।
নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, মা-বাবার অনুপ্রেরণায় কাদা মাখা পথ ও পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে অসহায় মানুষের খেদমতে বেরিয়ে পড়ার শিক্ষা তিনি ছোটবেলা থেকেই পেয়েছেন। সেই প্রেরণাই আজও তাকে অসহায় মানুষের মৃত্যুতে তাঁদের এতিম সন্তানদের পাশে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করে।
টেংরা বাজার মাজার মসজিদের খতিব মাওলানা হাফিজ তারেক আহমদের সভাপতিত্বে মাহফিলে বিশেষ অতিথির বয়ান পেশ করেন আল্লামা মুফতি গিয়াস উদ্দীন চৌধুরী ফুলতলী ও মাওলানা মারজান আহমদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন লতিফিয়া হ্যান্ডসের জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা গুফরান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, মাসিক পরওয়ানা-এর সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী, আনজুমানে আল-ইসলাহ নিউ ইয়র্ক সেন্ট্রাল কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা হাফিজ কাওছার আহমদ, তালামীযে ইসলামিয়া কেন্দ্রীয় পরিষদের সাবেক সভাপতি মাহবুব রহমান ফরহাদ, মৌলভীবাজার জেলা আল-ইসলাহ’র সভাপতি মুফতি শামসুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হাফিজ এনামুল হকসহ অন্যান্য বিশিষ্ট আলেম ও নেতৃবৃন্দ।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে দুপুর থেকে খতমে কুরআন, খতমে বুখারী, খতমে খাজেগান এবং হযরত সর্দার শাহ (র.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। মূল পর্বের আগে আয়োজকদের পক্ষ থেকে তিন শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল, হুইল চেয়ার, ক্রাচ, সেলাই মেশিন, ছাগল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।