
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক :
সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি কার্যক্রম ঘিরে সার্ভেয়ার গৌতম কুমার শীলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, হয়রানি ও আবেদন বিলম্বের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সরকারি ফি’র বাইরে অর্থ না দিলে কোনো কোনো আবেদন আটকে রাখা বা খারিজ করা হয়।
অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—আলীনগর ইউনিয়নের এক বয়স্ক প্রবাসীর কাছ থেকে ১৩ মে ২০২৬ নামজারির জন্য প্রথমে ৫ হাজার এবং পরে ফোন করে আরও ৫০ হাজার টাকা নেওয়া। ওই প্রবাসীর দাবি, অর্থ দেওয়ার পর তার নামজারি অনুমোদন হয়। অভিযোগটি সত্য হলে প্রশ্ন ওঠে—সরকারি ফি’র বাইরে নেওয়া অর্থ কোথায় ও কার জন্য দেওয়া হয়েছিল? সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি, আদেশ, সরকারি ফি’র রসিদ ও অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাই করলেই এর উত্তর মিলতে পারে।
নথিতে যে প্রশ্ন
২০ মে ২০২৬ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে দেওয়া হেলাল আহমদের একটি লিখিত আবেদনে নামজারি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করা হয়েছে। ডকেট নম্বর ৪৫৫-এর ওই আবেদনে বলা হয়, ২০০৬ সালে একই জমি তার নামে নামজারি হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে করা দুটি অনলাইন আবেদন—৩৬৮৪৭৪৪ ও ৩৯৪৭২৭০—খারিজ হয়। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় তহশিলদার ও সার্ভেয়ারের প্রতিবেদন অনুকূলে থাকার পরও আবেদনগুলো নামঞ্জুর করা হয়।
এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—একই জমির আবেদন দুবার খারিজের কারণ কী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতিবেদন কী ছিল এবং খারিজের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি কী?
এ ছাড়া দুবাগ ইউনিয়নের বড়গ্রাম মৌজার জে.এল. ৭৪-এর ভূমি অন্য ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তাজিম আহমদ চৌধুরী। উত্তরভাগ মৌজার জেনি চৌধুরীর কাছ থেকেও ২৫ হাজার টাকা নেওয়া ও তার সঙ্গে অশোভন আচরণের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নথি ও পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাই জরুরি।
তদন্তে যা দেখা প্রয়োজন
গত কয়েক মাসের নামজারি মামলার নমুনাভিত্তিক পর্যালোচনা হলে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা যাচাই করা সম্ভব। বিশেষ করে কোন আবেদন কখন খারিজ হয়েছে, পরে পুনরায় অনুমোদিত হয়েছে কি না, সার্ভেয়ার ও তহশিলদারের প্রতিবেদনে পরিবর্তন এসেছে কি না এবং সরকারি ফি’র বাইরে অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার।
অফিস সময়ের পরও অবস্থান এবং গেট বন্ধ রেখে কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে উপস্থিতি রেজিস্টার ও প্রয়োজন হলে সিসিটিভি ফুটেজও পরীক্ষা করা যেতে পারে।
সরকারি পোর্টালের কর্মকর্তা তালিকায় গৌতম কুমার শীলের নাম রয়েছে এবং তিনি ভারপ্রাপ্ত কানুনগো হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। ফলে নামজারি প্রক্রিয়ায় তার দায়িত্ব ও ক্ষমতার সীমা এবং বিভিন্ন মামলায় তার ভূমিকা স্পষ্ট করাও গুরুত্বপূর্ণ।
অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট নামজারি ফাইল, প্রতিবেদন, খারিজের আদেশ, সরকারি ফি’র রসিদ এবং প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক রেকর্ড পরীক্ষা করা জরুরি। একই সঙ্গে গৌতম কুমার শীলের বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষ করে অর্থ গ্রহণ, হেলাল আহমদের দুই আবেদন, তাজিমের অভিযোগ এবং আবেদনকারীদের ফোন করে ডাকার বিষয়ে তার ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসা প্রয়োজন।
ভূমি নাগরিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। সেবা নিতে নিয়মবহির্ভূত অর্থ দাবির অভিযোগ সত্য হলে তা প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও জনআস্থার গুরুতর প্রশ্ন। আর অভিযোগ অসত্য হলে তদন্তের মাধ্যমেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অবস্থানও পরিষ্কার হওয়া সম্ভব। এ ক্ষেত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর শূন্যতায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিরপেক্ষ ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন অভিযোগকারীগন।



