
Π আতাউর রহমান:
বিয়ানীবাজারের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি গভীর উদ্বেগের বার্তা। প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাতটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২ হাজার ২৩৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১ হাজার ১২৪ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৪৯.৭৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন, যাদের সবাই বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী। অন্য ছয়টি প্রতিষ্ঠানের কেউ সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করতে পারেনি।
দীর্ঘদিনের শিক্ষাগত ঐতিহ্যের অধিকারী বিয়ানীবাজারে এমন ফলাফল স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নের জন্ম দেয়। শিক্ষার্থীদের মেধা ও প্রস্তুতির ঘাটতি, শিক্ষকদের পাঠদানের মান, অভিভাবকদের দায়িত্ব, প্রতিষ্ঠান পরিচালনার দুর্বলতা কিংবা শিক্ষা প্রশাসনের তদারকির অভাব—কোন বিষয়টি কতটা দায়ী, তা নির্মোহভাবে অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।
দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে মনে করি, ফলাফল বিপর্যয়কে কেবল পরীক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দায়িত্ব ও কার্যকারিতা পর্যালোচনার বিষয়।
ভালো এসএসসি ফলাফল, এইচএসসিতে প্রত্যাশিত সাফল্য নেই কেন?
বিশেষভাবে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের ফলাফল বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। এ কলেজে সাধারণত এসএসসিতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীরাই ভর্তি হয়। স্বাভাবিকভাবেই তাদের কাছ থেকে এইচএসসিতে ভালো ফলাফল প্রত্যাশিত। অথচ ১ হাজার ২৮৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪৮২ জন অকৃতকার্য হয়েছে। পাসের হার ৬২.৪২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র চারজন।
প্রশ্ন হচ্ছে, ভালো ফলাফল নিয়ে কলেজে ভর্তি হওয়ার পরও এতসংখ্যক শিক্ষার্থী কেন প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন করতে পারছে না?
এর পেছনে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার পাঠ্যবিষয়, শিক্ষণপদ্ধতি এবং মূল্যায়নের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। এসএসসিতে মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতিতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের অনেকেই উচ্চমাধ্যমিকের বিশ্লেষণধর্মী ও বিষয়ভিত্তিক গভীর পাঠের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারে না।
আবার কলেজে ভর্তির পর নতুন শিক্ষাজীবনের উপযোগী নিয়মিত অধ্যয়ন, অনুশীলন ও সময় ব্যবস্থাপনার অভাবও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের ধারাবাহিকতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী যোগাযোগ এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির বিষয়গুলোও যাচাই করা প্রয়োজন।
ভালো শিক্ষার্থী ভর্তি করানোই প্রতিষ্ঠানের সাফল্য নয়; তাদের সম্ভাবনাকে যথাযথভাবে বিকশিত করে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়াই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সাফল্য।
শিক্ষার্থীর অমনোযোগিতা ও অভিভাবকের উদাসীনতা
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন বিনোদন শিক্ষার্থীদের সময়ের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। প্রযুক্তির ইতিবাচক ব্যবহার জ্ঞান অর্জনের সুযোগ বাড়ালেও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার পড়াশোনায় মনোযোগের ঘাটতি তৈরি করতে পারে।
উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ নিয়মিত কলেজে উপস্থিত না থেকে কোচিং কিংবা ব্যক্তিগত প্রস্তুতির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ক্লাসে অনুপস্থিতি, পাঠে অমনোযোগ এবং পরীক্ষার আগে তড়িঘড়ি প্রস্তুতি শিক্ষার ভিত্তিকে দুর্বল করে।
এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্বও কম নয়। সন্তান কলেজে যাচ্ছে কি না, নিয়মিত ক্লাস করছে কি না এবং পড়াশোনায় যথেষ্ট সময় দিচ্ছে কি না—এসব বিষয়ে পরিবারের সচেতন নজরদারি থাকা জরুরি। সন্তানকে ভালো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে কিংবা প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান দিয়েই অভিভাবকের দায়িত্ব শেষ হয় না। তার শিক্ষাজীবনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখাও প্রয়োজন।
শিক্ষকের দায়িত্ব: পাঠদান নয়, শিখন নিশ্চিত করা
শিক্ষার মান নির্ভর করে শিক্ষকের পেশাগত দক্ষতা, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর। একজন শিক্ষকের কাজ শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠ্যবইয়ের বিষয়বস্তু উপস্থাপন করা নয়; শিক্ষার্থীরা কতটুকু বুঝছে, কারা পিছিয়ে পড়ছে এবং কীভাবে তাদের দুর্বলতা কাটিয়ে তোলা যায়, তা নিশ্চিত করাও তাঁর দায়িত্ব।
নির্ধারিত সময়ে পাঠ্যসূচি শেষ না করা, নিয়মিত ক্লাস না নেওয়া, দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ নজর না দেওয়া কিংবা ধারাবাহিক মূল্যায়নের অভাব থাকলে তার প্রভাব পরীক্ষার ফলাফলে পড়তে পারে।
তবে প্রমাণ ছাড়া সব শিক্ষককে দায়ী করা সমীচীন নয়। অনেক শিক্ষক সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই ব্যক্তিগত অভিযোগের পরিবর্তে শিক্ষক উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল, পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করতে হবে।
আমার বিবেচনায়, শিক্ষকতার সার্থকতা শুধু শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত থাকার মধ্যে নয়; শিক্ষার্থীর জ্ঞান, চিন্তা ও দক্ষতার বিকাশ ঘটানোর মধ্যেই এর প্রকৃত পরিচয়।
IELTS ও বিদেশমুখী প্রবণতা: শিক্ষার ভারসাম্য রক্ষা জরুরি
বিয়ানীবাজারের অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও অভিবাসনের আগ্রহ রয়েছে। সে কারণে ইংরেজি ভাষা শেখা ও IELTS প্রস্তুতির প্রতি ঝোঁক তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এটি ইতিবাচক প্রবণতা। কিন্তু এই প্রস্তুতিকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে কেউ যদি কলেজের নিয়মিত পাঠদান ও বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতিকে অবহেলা করে, তা উদ্বেগের বিষয়।
IELTS একটি ভাষাগত দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা, সাধারণ শিক্ষার বিকল্প নয়। বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও অন্যান্য বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান এবং বিশ্লেষণী দক্ষতা অর্জন ছাড়া উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রেও প্রত্যাশিত সাফল্য পাওয়া কঠিন। তাই বিদেশমুখী প্রস্তুতির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভিত্তি শক্তিশালী রাখা জরুরি।
প্রতিষ্ঠানপ্রধান, পরিচালনা পর্ষদ ও শিক্ষা প্রশাসনের দায়
একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। অধ্যক্ষকে শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; নিয়মিত একাডেমিক তদারকি, শিক্ষক সভা, শ্রেণিকক্ষ পরিদর্শন, উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ পাঠদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পরিচালনা পর্ষদেরও শিক্ষার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তার কিংবা সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শনের জায়গা নয়; এর মূল লক্ষ্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা।
একই সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসনের তদারকি আরও কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হলে শিক্ষাবর্ষ চলাকালেই তার কারণ চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। ফলাফল প্রকাশের পর আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
উত্তরণের জন্য করণীয়
বিয়ানীবাজারের শিক্ষার মানোন্নয়নে কয়েকটি পদক্ষেপ অবিলম্বে গ্রহণ করা প্রয়োজন।
১. পাঁচ বছরের ফলাফল পর্যালোচনা: প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিগত পাঁচ বছরের পাসের হার, জিপিএ-৫, বিষয়ভিত্তিক ফলাফল ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর সংখ্যা বিশ্লেষণ করতে হবে।
২. প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন: যেসব প্রতিষ্ঠানের পাসের হার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি বা নিচে, সেগুলোর একাডেমিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষকসংকট, পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
৩. নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করা: শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংরক্ষণ এবং অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. বিষয়ভিত্তিক বিশেষ পাঠদান: শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষ ক্লাস ও নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ দিতে হবে।
৫. ধারাবাহিক মূল্যায়ন: মাসিক পরীক্ষা ও অগ্রগতি প্রতিবেদন চালু করে শিক্ষার্থীদের শিখন-ঘাটতি দ্রুত শনাক্ত করতে হবে।
৬. শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন: আধুনিক শিক্ষণপদ্ধতি, বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন বিষয়ে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
৭. অভিভাবক-শিক্ষক সমন্বয়: নিয়মিত অভিভাবক সভার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনা ও ফলাফল নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
৮. প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা: প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে পরিমাপযোগ্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে আগামী শিক্ষাবর্ষের জন্য লিখিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৯. শিক্ষা প্রশাসনের জবাবদিহি: উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগকে নিয়মিত প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও অগ্রগতি মূল্যায়নের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও সহায়তা দিতে হবে।
১০. শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাব ও অপ্রয়োজনীয় বিভাজনের বাইরে রেখে জ্ঞানচর্চা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভালো মানুষ গড়তে হবে
পরীক্ষার ফলাফল শিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক, তবে সেটিই শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। জিপিএ-৫ অর্জন করলেই একজন শিক্ষার্থী জীবনে সফল হবে, আর অকৃতকার্য হলেই সে ব্যর্থ—এমন ধারণা সঠিক নয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্ভাবনা রয়েছে। প্রয়োজন সেই সম্ভাবনা বিকাশের উপযুক্ত পরিবেশ ও দিকনির্দেশনা।
আমরা এমন শিক্ষাব্যবস্থা চাই, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় পাস করার জন্য পড়বে না; বরং যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শিখবে, সত্যকে ধারণ করবে, নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।
বিয়ানীবাজারের শিক্ষা-ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে উপজেলা পর্যায়ে একটি উন্মুক্ত শিক্ষা সংলাপ আয়োজন করা যেতে পারে। সেখানে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ফলাফল, সীমাবদ্ধতা, সম্ভাব্য কারণ ও উত্তরণের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
একজন শিক্ষক হিসেবে আমার বিশ্বাস, একটি প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি দুর্বল হলে তার প্রভাব শুধু ব্যক্তিজীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো সমাজ ও জনপদের ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি শুধু পরীক্ষার্থী তৈরি করছি, নাকি আগামী দিনের যোগ্য, দক্ষ, সৎ ও মানবিক নাগরিক গড়ে তুলছি?
বিয়ানীবাজারের এবারের ফলাফল আমাদের সামনে সেই প্রশ্নই তুলে ধরেছে। এখন প্রয়োজন দোষারোপ নয়, আত্মসমালোচনা; আনুষ্ঠানিক আশ্বাস নয়, কার্যকর উদ্যোগ; আর সাময়িক প্রতিক্রিয়া নয়, দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাসংস্কার।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে আজই শিক্ষার মানোন্নয়নে সম্মিলিত দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।





