
পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক :
ইসলামি শরিয়তে সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ফিতরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, এর দুটি প্রধান উদ্দেশ্য রয়েছে—একটি হলো রমজান মাসে সংঘটিত অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটি, অশ্লীলতা ও অনর্থক কাজ থেকে রোজাকে পবিত্র করা; অন্যটি হলো গরিব ও মিসকিনদের খাদ্যের ব্যবস্থা করা। (সূত্র: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯)
যেসব মুসলিমের মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদ রয়েছে, তাদের ওপর ফিতরা ওয়াজিব। এ ক্ষেত্রে সুস্থ, বালেগ বা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। নাবালেগ, মুসাফির কিংবা মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তি যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হয়, তবে তার পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে। নাবালেগ বা মানসিক ভারসাম্যহীনের ক্ষেত্রে তাদের অভিভাবক ফিতরা প্রদান করবেন।
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী গম, যব, খেজুর, কিশমিশ বা পনির দ্বারা ফিতরা আদায় করা যায়। (সূত্র: সহিহ বোখারি, সুনানে তিরমিজি, মুসনাদে আহমদ) পরিমাণ হিসেবে যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির এক সা, যা প্রায় ৩.২৭১ কেজি; আর গম (আটা/ময়দা) আধা সা, যা প্রায় ১.৬৩৬ কেজি। ওজন হিসেবে এক সা প্রায় ৩২৭০.৬ গ্রাম এবং আধা সা প্রায় ১৬৩৫.৩ গ্রাম।
বাংলাদেশের বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী আনুমানিক হিসাব করলে আটা (প্রতি কেজি ৬০ টাকা) অনুযায়ী ফিতরা প্রায় ৯৮.১৬ টাকা, যব (প্রতি কেজি ১৩৫ টাকা) অনুযায়ী ৪৪১.৫৮ টাকা, খেজুর (প্রতি কেজি ৩০০ টাকা) অনুযায়ী ৯৮১.৩০ টাকা, কিশমিশ (প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা) অনুযায়ী ১,৭৯৯.০৫ টাকা এবং পনির (প্রতি কেজি ১,৫০০ টাকা) অনুযায়ী ৪,৯০৬.৫০ টাকা নির্ধারিত হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ মুহাম্মদ (সা.) ছোট-বড়, পুরুষ-মহিলা, স্বাধীন-গোলাম—সবার ওপর ফিতরা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও হজরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বর্ণনা করেন, তারা রমজানের শেষ দিনে ফিতরা আদায় করতেন।
সদকাতুল ফিতর কেবল একটি আর্থিক দান নয়; এটি রোজার পূর্ণতা এবং সমাজে সাম্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল নিদর্শন। পবিত্র রমজানের শেষে যথাসময়ে ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে আমরা যেমন নিজের ইবাদতকে পরিপূর্ণ করি, তেমনি অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর সুযোগ লাভ করি। আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলের আমল কবুল করুন।