
Π আতাউর রহমান
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা তীব্র হচ্ছে, পাশাপাশি বাড়ছে প্রশ্ন, শঙ্কা ও বিভ্রান্তি।
বাসা-বাড়িতে গিয়ে ভোটার আইডি নম্বর চাওয়া, বিকাশ নম্বর সংগ্রহ, কিংবা আইডি কার্ডের ছবি বা স্ক্রিনশট নেওয়া—এসব ঘটনা সাধারণ ভোটারের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। এগুলো কি বৈধ প্রক্রিয়ার অংশ, নাকি ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের চেষ্টা? স্পষ্ট উত্তর না থাকলে ভোটারের আস্থায় ফাটল পড়া স্বাভাবিক।
ভোটার আইডি কার্ডের তথ্য সংবেদনশীল। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে এ তথ্য সংগ্রহ করা যৌক্তিক নয়। একইভাবে আর্থিক নম্বর চাওয়াও ভোটকে প্রলোভন বা চাপের সঙ্গে যুক্ত করার আশঙ্কা তৈরি করে। গণতান্ত্রিক ভোট হওয়া উচিত স্বাধীন ও স্বচ্ছ—কোনো প্রভাব ছাড়া।
অনুপস্থিত ভোটার, নকল ব্যালট, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা—এসব নিয়েও জনমনে প্রশ্ন আছে। প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না পেলে গুজব বাড়ে। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো সময়মতো তথ্য ও ব্যাখ্যা প্রদান, যাতে ভোটার বিভ্রান্ত না হন।
এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে—‘ফ্যামিলি কার্ড’, বেহেশতের টিকেট জাতীয় প্রতিশ্রুতিমূলক স্লোগান, AI ব্যবহার করে প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রচারণা। এসব কতটা গ্রহণযোগ্য, তা আইন ও নীতিমালার আলোকে বিচার করা জরুরি। ভোটের স্বাধীনতা মানেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা—তবে বিভ্রান্তি বা ভুল তথ্য ছড়ানোর হাতিয়ার নয়।
গণতন্ত্রের শক্তি শেষ পর্যন্ত ভোটারের সচেতনতার ওপর নির্ভর করে। ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, গুজব যাচাই না করে বিশ্বাস না করা, এবং চাপ বা প্রলোভনে না গিয়ে নিজের বিবেচনায় ভোট দেওয়াই সুস্থ নির্বাচনী সংস্কৃতির ভিত্তি। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও প্রতিষ্ঠানগুলোর কাজ হলো এমন পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভোটার নির্ভয়ে এবং আস্থার সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঐতিহাসিক হবে কি না—তা নির্ভর করবে কেবল ফলাফলে নয়, পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও অংশগ্রহণমূলক চরিত্রের ওপর। প্রতিযোগিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। তবে যদি তা নিয়ম, নৈতিকতা ও নাগরিক অধিকারের প্রতি সম্মান রেখে হয়, তখনই গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে।