
পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক / প্রেসক্লাব প্রতিবেদক:
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সিলেট-৬ আসনে গণ অধিকার পরিষদ মনোনীত প্রার্থী, ট্রাক প্রতীকের এডভোকেট জাহিদুর রহমানের সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন প্রেসক্লাব প্রতিনিধিরা। রাজনীতি, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ভাবনা, ভোটের সমীকরণ ও এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি খোলামেলা মত দেন। সাক্ষাৎকারের নির্বাচিত অংশ তুলে ধরা হলো—
প্রশ্ন: আপনি কেন নিজেকে এই আসনের যোগ্য প্রার্থী মনে করেন?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: আমি নিজেকে কোনো অলৌকিক বা অতিমানবীয় যোগ্য প্রার্থী ভাবি না। তবে দীর্ঘদিন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজে যুক্ত আছি। দেশ-বিদেশে ঘুরে বাস্তবতা দেখেছি। আজ বাংলাদেশের রাজনীতি বিপথগামী—অতীতের প্রায় সব সরকারই কমবেশি গণমানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে। আমরা এই ধারার পরিবর্তন আনতেই রাজনীতিতে এসেছি।
প্রশ্ন: আপনার রাজনৈতিক অবস্থানটা কীভাবে ব্যাখ্যা করবেন?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: আমরা কোনো দলের বিরুদ্ধে নই, আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমাদের লক্ষ্য ন্যায়ভিত্তিক, জনবান্ধব অধিকার প্রতিষ্ঠা। এমপির কাজ থানা মেইনটেন করা নয়—এমপির কাজ নীতি নির্ধারণ, জনগণের অধিকার রক্ষা ও এলাকার উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেওয়া।
প্রশ্ন: বর্তমান ভোটের রাজনীতি নিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: দুঃখজনক হলেও সত্য, কেউ কেউ কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এমনকি “বেহেশতের টিকিট” বিক্রি করতেও ব্যস্ত। আমি মনে করি, লোভ-লালসাহীন প্রার্থী নির্বাচন করাই জরুরি। আমি সেবক হতে চাই, ক্ষমতার মালিক হতে নয়—ভয় বা প্রলোভনের ভোট নয়, চাই জনগণের আস্থা।
প্রশ্ন: নির্বাচিত হলে সিলেট-৬-এর জন্য আপনার প্রধান অগ্রাধিকার কী হবে?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্ট—মানবাধিকার ও সুশাসন নিশ্চিত করা, উভয় উপজেলায় গ্যাস সুবিধা, প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের যথাযথ মূল্যায়ন, শিক্ষার গুণগত উন্নয়ন, শৃঙ্খলা ও শান্তির জনপদ গড়া, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, শিল্পকারখানা স্থাপন, বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু, এসব কর্মসূচির নিয়মিত মনিটরিং এবং দুর্নীতির কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
প্রশ্ন: রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে আপনার বার্তা কী?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বন্ধ করতে হবে, ভিন্নমত মানার সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।
প্রশ্ন: বড় দুই দলের প্রার্থীদের মাঝে দাঁড়িয়ে আপনার জয়ের বাস্তবতা কীভাবে দেখছেন?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: আমি চাই মানুষ কোনো প্রভাব ছাড়াই নিজের বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিক। চ্যালেঞ্জ আছে, তবে জনগণ নতুন ও স্বচ্ছ রাজনীতির জন্য উন্মুক্ত। মানুষের আস্থা পেলে জয় অসম্ভব নয়।
প্রশ্ন: আপনার মূল ভোটভিত্তি কোথায় এবং কীভাবে শক্ত করছেন?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়ন আমাদের প্রধান ভরকেন্দ্র। সরাসরি গণসংযোগ, পরিবারভিত্তিক ভোটার সচেতনতা ও সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে আস্থা গড়ছি। মানুষের কথা শোনা ও পাশে দাঁড়ানোই আমাদের শক্তি।
প্রশ্ন: বিশ্লেষকেরা বলছেন, আপনি ফলাফলে ‘গেম-চেঞ্জার’ হতে পারেন—এ বিষয়ে আপনার মত?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: একমত। আমরা শুরু থেকেই নীতিগত পরিবর্তনের কথা বলছি। অনেক ভোটার আছেন, যারা আগে বড় দুই দলে সীমাবদ্ধ ছিলেন—শেষ মুহূর্তে তাদের সমর্থন এলে সমীকরণ বদলাতে পারে।
প্রশ্ন: নীরব ভোটারদের টানতে আপনার প্রধান বার্তা কী?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক রাজনীতি। তারা যেন বোঝেন—একটি ভোটই গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা দিতে পারে।
প্রশ্ন: প্রচারণায় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: বড় দলগুলোর সাংগঠনিক ও আর্থিক প্রভাব বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা জনগণের সরাসরি সমর্থন ও আস্থার ওপরই ভরসা রাখছি।
প্রশ্ন: বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ—দুই উপজেলার বার্তায় কি পার্থক্য রাখছেন?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: বাস্তবতার কারণে কিছু পার্থক্য আছে। বিয়ানীবাজারে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বড় ইস্যু, গোলাপগঞ্জে কৃষি ও স্থানীয় উন্নয়ন বেশি গুরুত্ব পায়। তবে লক্ষ্য একটাই—টেকসই উন্নয়ন ও স্বচ্ছ রাজনীতি।
প্রশ্ন: আঞ্চলিকতার রাজনীতি নিয়ে আপনার অবস্থান কী?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: আঞ্চলিক চাহিদা স্বাভাবিক ও যৌক্তিক, কিন্তু শুধু আঞ্চলিকতার নামে ভোট বিভাজন গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। উন্নয়ন হতে হবে ভারসাম্যপূর্ণ।
প্রশ্ন: তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের কাছে আপনার অগ্রাধিকার কী তুলে ধরছেন?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: তাদের বলছি—তোমাদের ভোট দিয়েই বাস্তব পরিবর্তন সম্ভব। স্বচ্ছতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান—এই চারটি আমাদের অগ্রাধিকার।
প্রশ্ন: ভোটাররা কেন আপনাকে ‘বিকল্প রাজনীতি’ হিসেবে দেখবে?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: কারণ আমরা ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের জন্য রাজনীতি করি। স্বচ্ছ, দায়বদ্ধ ও নাগরিক-সচেতন রাজনীতিই আমাদের পরিচয়।
প্রশ্ন: এই আসনে আপনার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য কী?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: ফল যাই হোক, সিলেট-৬-এর মানুষের পাশে থাকা, তাদের সমস্যা বোঝা এবং জনকল্যাণমুখী রাজনীতির ধারা প্রতিষ্ঠাই আমার লক্ষ্য।
প্রশ্ন: ভোটারদের উদ্দেশ্যে আপনার শেষ কথা?
এডভোকেট জাহিদুর রহমান: নিরপেক্ষ ভোটই পারে গণতন্ত্রের বাস্তব পরিবর্তন আনতে। লোভ-ভয়কে না বলে সৎ ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিন—আমাকে আপনাদের সেবক হওয়ার সুযোগ দিন।