
আতাউর রহমান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে নজর কেড়েছে। এখানে মোট ভোটারের একটি বড় অংশই তরুণ—জাতীয় ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। তরুণ ভোটাররা তথ্যপ্রযুক্তি সচেতন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় এবং দ্রুত মত পরিবর্তনের ক্ষমতাসম্পন্ন।
প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছেন এমন তরুণদের কাছে প্রধান প্রাধান্য রয়েছে—কর্মসংস্থান, শিক্ষার মান, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং মত প্রকাশের নিরাপত্তা। তারা শুধুমাত্র পারিবারিক বা সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না; বরং রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং ভবিষ্যত পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিএনপি দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনের মাঠে সক্রিয়ভাবে ফিরে এসেছে। দলটি ইতিবাচক রাজনীতি ও ভবিষ্যতমুখী প্রতিশ্রুতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তরুণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে কর্মসংস্থান, শিক্ষিত বেকারদের জন্য ভাতা, উদ্যোক্তা ও আইটি উদ্যোগ সহ নানা পরিকল্পনা উপস্থাপন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের কার্যক্রম তুলে ধরা হচ্ছে, তবে অপপ্রচার বা গুজব থেকে দূরে থাকার প্রতি দলের দৃষ্টি রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীও তরুণ ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণে সক্রিয়। তারা দক্ষ জনশক্তি ও কর্মসংস্থান কেন্দ্রিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে—যেমন প্রশিক্ষণ, ‘ইউথ টেক ল্যাব’, জব ইয়ুথ ব্যাংক, উদ্যোক্তা ও ফ্রিল্যান্সার গড়ে তোলা এবং স্বল্পশিক্ষিত যুবকদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম। তবে দলের কিছু নীতি এবং আদর্শিক অবস্থান নিয়ে তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একবারের নির্বাচনে স্বাধীন-৭১’ ও ৩৬ জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটও ভোটের বিভাজন এবং ফলাফলের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। শহর ও গ্রামে ভিন্ন আচরণ এবং সামাজিক প্রভাবের মধ্য দিয়ে তরুণদের ভোটের দিকনির্দেশনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য অনিশ্চিত হলেও গুরুত্বপূর্ণ।
সিলেট-৬-এর নির্বাচনী ফলাফল প্রমাণ করবে, যে গণতন্ত্রের ভবিষ্যত শুধুমাত্র বয়সে নয়, সচেতনতা, তথ্য এবং দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তে নিহিত। তরুণ ভোটাররা আজ শুধু ভোটার নয়; তারা নির্বাচনের ফলাফলের এক গুরুত্বপূর্ণ সূচক।