
বিয়ানীবাজারের পল্লীতে এক যুবকের মৃতদেহ পাওয়া যাওয়ার ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহত নাজির উদ্দিনের মৃত্যুকে ঘিরে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে, তা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের বিষয় নয়—এটি সমাজ, প্রশাসন এবং আমাদের সামষ্টিক বিবেকের সাথেও গভীরভাবে যুক্ত।
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ প্রকাশিত সহযোগী একটা অনলাইন সংবাদে উঠে এসেছে, নিহতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আবার মৃত্যুর কারণ হিসেবে পরিবারের পক্ষ থেকে ‘পান চিবানোর সময় দম বন্ধ হয়ে যাওয়া’র ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—এই ব্যাখ্যা কি চূড়ান্ত সত্য, নাকি এর আড়ালে অন্য কোনো অজানা বাস্তবতা লুকিয়ে আছে? গ্রামের মানুষের সন্দেহ এবং পুলিশের মাধ্যমে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানোর সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে, বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

আরও গুরুত্বপূর্ণ যে দিকটি সামনে আসে, তা হলো নাজির উদ্দিনের পারিবারিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট। বাবা-মা হারানোর পর নিজের গ্রাম ছেড়ে অন্য উপজেলায় বসবাস, সেখানে বিয়ে ও সংসার গড়া—সব মিলিয়ে তার জীবন ছিল নানা টানাপোড়েনে ভরা। এমন বাস্তবতায় আকস্মিক মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
আমরা মনে করি, এ ধরনের ঘটনায় সবচেয়ে প্রয়োজনীয় বিষয় হলো স্বচ্ছ তদন্ত ও নিরপেক্ষ অনুসন্ধান। গুজব, অনুমান বা সামাজিক চাপের ভিত্তিতে কোনো সিদ্ধান্ত নয়—বরং ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য উদঘাটনই হতে পারে একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। এতে যেমন নিহতের আত্মার প্রতি ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে, তেমনি নির্দোষ কেউ যেন অকারণে সন্দেহের ভার না বহন করে।
একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই। সংবেদনশীল এমন ঘটনায় অতিরঞ্জন নয়, প্রয়োজন তথ্যনির্ভর ও মানবিক সংবাদ পরিবেশন।
নাজির উদ্দিনের মৃত্যু যদি নিছক দুর্ঘটনা হয়, তবে সেটিও স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া দরকার। আর যদি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকে, তবে তা উদঘাটনের দায়িত্ব রাষ্ট্র ও প্রশাসনের।
পঞ্চখণ্ড আই বিশ্বাস করে—সত্য যত কঠিনই হোক, তা প্রকাশ পাওয়াই সমাজের জন্য কল্যাণকর। আমরা আশা করি, এই মৃত্যুর রহস্য দ্রুত উন্মোচিত হবে এবং ন্যায়বিচারের পথে কোনো ধোঁয়াশা থাকবে না।