পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক:
সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার জোরালো দাবিতে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টায় সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন সংগঠনের নেতারা। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরেও আরেকটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক প্রকল্পের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্নের বিষয়ে নেতৃবৃন্দকে আশ্বস্ত করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের সভাপতি ডা. এম ফয়েজ আহমদ, সহ সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোবায়ের আহমদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কবির আহমদ সিদ্দিকী, শিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী ওয়েস, দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মো. রাজ্জাকুজ্জামান চৌধুরী, সদস্য ইসমত ইবনে ইসহান সানজিদ, শহিদুল হাসান, মাহবুব আহমদ মুক্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ময়নুল ইসলাম, আবুল ফজল মো. আরিফ প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রায় পৌনে তিন লক্ষ মানুষ অধ্যুষিত বিয়ানীবাজারের যোগাযোগব্যবস্থা মূলত স্থলপথনির্ভর। সিলেট-চারখাই-শেওলা সড়ক বিয়ানীবাজারসহ গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও বড়লেখার জনগণের সিলেট নগরীর সাথে প্রধান সংযোগমাধ্যম। এ কারণে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ইসিএনইসি) ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল সভায় সড়কটিকে চারলেন মহাসড়কে উন্নীত করার প্রকল্প অনুমোদন করলে মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়।
৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে চারলেন মহাসড়কে উন্নীত করার লক্ষ্যে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়, যার মধ্যে ২ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকা বিশ্বব্যাংকের ঋণ। প্রকল্পের অধীনে ২টি সার্ভিস লেন, ৩টি সেতু, ৩১টি কালভার্ট, ১টি ফ্লাইওভার, ৪টি ফুটওভারব্রিজ, ৬টি ওভারপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৭টি ফুটপাত ও ১টি টোলপ্লাজা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষভাবে কুশিয়ারা নদীর শেওলা সেতুর স্থলে ৬০ মিটার দীর্ঘ ও ৪০ মিটার উঁচু নতুন সেতু নির্মাণের নকশাও অন্তর্ভুক্ত। প্রকল্প সমাপ্তির সময়সীমা ধরা হয়েছে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭।
কিন্তু জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণে বিলম্ব, প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং অন্যান্য অজানা কারণে কাজের অগ্রগতি শঙ্কাজনক হারে ব্যাহত হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে শেওলা স্থলবন্দর—যেখানে প্রতিদিন গড়ে দুইশত ট্রাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি করে—এই সড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
স্মারকলিপিতে পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসকের ০৮-০৫-২০২৫ তারিখের রেজুলেশন প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, একটি সম্ভাবনাময় ও জনআকাঙ্ক্ষিত প্রকল্পকে অযৌক্তিক কারণে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না। সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য মাননীয় জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।