1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২১ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
বিদ্যুৎ খাতে বকেয়া ৫০ হাজার কোটি টাকা ছাড়াল: উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ঝুঁকি ৭ জুন থেকে শুরু হতে পারে এইচএসসি পরীক্ষা: সব বোর্ডে এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্র বিয়ানীবাজারে ‘সময়চিত্র’র ব্যতিক্রমী ঈদ পুনর্মিলনী: সম্প্রীতি, ঐক্য ও পেশাগত বন্ধনের অনন্য মিলনমেলা অবসরের টাকা পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষা: অনলাইন জটিলতাসহ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বহুমাত্রিক ভোগান্তি, শিক্ষামন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা বিয়ানীবাজারে প্রশাসক নিয়োগ: কার হাতে উঠছে প্রশাসনের চাবিকাঠি? চারখাই বাজারে ৫০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের দাবি লাইলাতুল কদর—ক্ষমা, রহমত ও আত্মশুদ্ধির মহারাত সংসদের অনুমোদন না পেলে ১৩৩ অধ্যাদেশ অকার্যকর হবে: আসিফ নজরুল বারবার গরম খাবারে লুকিয়ে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের যাত্রা শুরু—স্পিকার হাফিজ উদ্দিন, সভাপতি ড. খন্দকার মোশাররফ

সচেতনতার এক অনন্য দর্শন : আতাউর রহমান

– Π আতাউর রহমান : শিক্ষাবিদ, কলামিস্ট ও সমাজচিন্তক।
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ মে, ২০২৫
  • ৪৭৮ বার পড়া হয়েছে

মানুষের জীবনে সফলতা, শান্তি ও পরিপূর্ণতার সূতিকাগার লুকিয়ে আছে একটি গভীর সত্যে—নিজেকে জানা, নিজের সঠিক অবস্থান খুঁজে নেওয়া, এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে গড়ে তোলা। জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই ধরা দেয়, যখন মানুষ নিজের সামর্থ্য ও সীমাবদ্ধতাকে চিনে নেয় এবং নিজ ভূমিকা পালনে দায়বদ্ধ থাকে।

চলতি জীবনে আমরা প্রায়শই লক্ষ্য করি—ব্লেড দিয়ে যেমন গাছ কাটা যায় না, তেমনি কুড়াল দিয়ে চুল কাটা অসম্ভব। এর পেছনে আছে এক সরল কিন্তু গভীর জীবনবোধ: প্রত্যেক বস্তু বা ব্যক্তির নিজস্ব কার্যকারিতা ও সার্থকতার ক্ষেত্র রয়েছে। মানুষের ক্ষেত্রেও বিষয়টি ভিন্ন নয়। কেউ হয়তো বিশ্লেষণে পারদর্শী, কেউ সৃজনশীলতায়; কেউ নেতৃত্বে, কেউবা সেবামূলক কাজে নিবেদিত প্রাণ।

কিন্তু আমাদের সমাজে প্রায়শই মানুষকে একটিমাত্র মানদণ্ডে বিচার করা হয়। সফলতা যেন শুধুই উচ্চ পদ, প্রচুর আয় বা খ্যাতির ওপর নির্ভর করে। অথচ একজন দক্ষ কারিগরের কাজ যেমন সমাজে অনন্য অবদান রাখে, তেমনি একজন কৃষকের শ্রমেই আমাদের প্রতিদিনের আহার নিশ্চিত হয়। একেকজন মানুষ, একেকটি আসবাবের মতো—চেয়ার বসার জন্য, টেবিল লেখার জন্য, আলমারি জিনিস রাখার জন্য। সবাই প্রয়োজনীয়, সবাই গুরুত্বপূর্ণ।

এই উপলব্ধি সমাজ সচেতনতার জন্য অত্যন্ত জরুরি। যখন আমরা একে অপরকে তাদের নিজস্বতায় সম্মান জানাই, তখনই গড়ে ওঠে একটি মানবিক, ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ। শ্রদ্ধাবোধ তখন আর নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণি বা পেশার প্রতি সীমাবদ্ধ থাকে না—তা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র, সবার জন্য।

শিক্ষা, পরিবার ও গণমাধ্যম—এই তিনটি স্তম্ভকে হতে হবে এই সচেতনতার বাহক। আমাদের সন্তানদের শেখাতে হবে—তুমি যা হও, মনপ্রাণ ঢেলে হও; কারণ সব কাজই মহৎ, যদি তা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে করা হয়। একজন ডাক্তার যেমন মানুষের জীবন বাঁচান, তেমনি একজন মালী প্রকৃতিকে রক্ষা করেন। একজন লেখক ভাবনার জগতে আলো দেন, আর একজন রিকশাচালক যাত্রার সহায়ক হন। সমাজের সব ক্ষেত্রেই প্রয়োজন পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও মূল্যায়নের।

আমরা যদি নিজেকে জানি, নিজের ভূমিকা ঠিকভাবে বুঝি এবং অন্যকে তার ভূমিকায় সম্মান করি—তবে গড়ে উঠবে এক সহনশীল, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ। যেখানে প্রতিটি মানুষ তার নিজস্ব আলোয় উদ্ভাসিত হবে, কেউ কারও তুলনায় ছোট বা বড় হবে না, বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।

পরিশেষে বলি, নিজ নিজ পথে মহিমান্বিত হওয়াই মানবিকতা ও প্রগতির সেরা দর্শন।
আসুন, এই দর্শনকে জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে ছড়িয়ে দিই—চিন্তায়, চর্চায় ও চেতনায়।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট