
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট: সিলেট-চারখাই-শেওলা-সুতারকান্দি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি, সিলেটের নেতৃবৃন্দ। দীর্ঘদিনের জনদাবি, সাংগঠনিক উদ্যোগ, জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতির সভাপতি ও সিলেটের সাবেক সিভিল সার্জন ডা. ফয়েজ আহমদ এবং সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট বারের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহমদ খান এক যুক্ত বিবৃতিতে এ সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করা, নির্মাণের গুণগত মান বজায় রাখা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
সিলেট-চারখাই-শেওলা-সুতারকান্দি মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পটি ২০২৩ সালের ১১ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদিত হয়। প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়ক উন্নয়নে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। প্রকল্পটি ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারিত রয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট বিভাগের দীর্ঘসূত্রতা এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সড়কটি চার লেনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয়তা নেই—এমন মতামতসংবলিত একটি রেজুলেশন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ঘটনায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। বিষয়টি বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি, সিলেটের নেতৃবৃন্দের দৃষ্টিগোচর হলে তাঁরা দ্রুত প্রতিবাদ জানান এবং জনস্বার্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দাবিতে সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেন।
প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরতে বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি, সিলেটের উদ্যোগে বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির মহানগর সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।
এ ছাড়া, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট সমিতির নেতৃবৃন্দ বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরবর্তী সময়েও মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে প্রকল্পের প্রতিবন্ধকতা দূর করার দাবি জানানো হয়।
সমিতির নেতৃবৃন্দের মতে, ধারাবাহিক সাংগঠনিক তৎপরতা, জনমত গঠন এবং জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সম্প্রতি প্রকল্পের আওতায় ভূমি অধিগ্রহণ এবং নির্মাণকাজের জন্য শ্রমিক ও যন্ত্রপাতি রাখার জায়গা প্রস্তুতসহ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি শেওলা স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আমদানি-রপ্তানি, পণ্য পরিবহন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।
যুক্ত বিবৃতিতে সভাপতি ডা. ফয়েজ আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহমদ খান বলেন, “প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়া নিঃসন্দেহে বৃহত্তর বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রতিফলন। এ অগ্রগতির জন্য আমরা সরকার, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রশাসন এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে শুধু কাজ শুরু করলেই হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।”
তাঁরা আরও আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে নির্মাণকাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে, যাতে সরকারি অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হয় এবং জনগণ উন্নয়নের সুফল পায়।
মেওয়া টু থানা বাজার সড়ক প্রশস্তের দাবি
বৃহত্তর এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার সামগ্রিক উন্নয়নের স্বার্থে সমিতির নেতৃবৃন্দ মেওয়া থেকে থানা বাজার পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করারও জোর দাবি জানান। তাঁদের মতে, প্রধান মহাসড়কের উন্নয়নের পাশাপাশি সংযোগ সড়কগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে যানজট কমবে, স্থানীয় মানুষের যাতায়াত সহজ হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি, সিলেটের নেতৃবৃন্দ বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জের সর্বস্তরের জনগণের প্রতি প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বাত্মক সহযোগিতার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, এ মহাপ্রকল্প কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের একক অর্জন নয়; এটি বৃহত্তর অঞ্চলের মানুষের সম্মিলিত প্রত্যাশা ও জনস্বার্থের বিষয়।
সবার ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতা এবং কার্যকর তদারকির মাধ্যমে সিলেট-চারখাই-শেওলা-সুতারকান্দি চার লেন প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।




