ছবি ভিডিও ভিডিও
সিলেট

সিলেটে রমজানের আগেই চড়া নিত্যপণ্যের বাজার, চাপে ক্রেতারা

প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬ | ৬:২০ পূর্বাহ্ণ



নিজস্ব প্রতিবেদক | পঞ্চখণ্ড আই, সিলেট : নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বমুখী দামে সিলেটের সাধারণ মানুষের সংসার চালানো ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। চাল-ডাল, শাকসবজি, মাছ-মাংস, ডিমসহ প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্য কিনতে বাড়তি টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। অথচ সেই অনুপাতে বাড়েনি মানুষের আয়। ফলে সীমিত ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এর মধ্যে আসন্ন পবিত্র রমজানকে সামনে রেখে ছোলা, ভোজ্যতেল, পেঁয়াজ, মসুর ডাল, চিনি ও খেজুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রমজান শুরু হতে কয়েক মাস বাকি থাকতেই এসব পণ্যের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। তাঁদের আশঙ্কা, প্রতিবছরের মতো এবারও রমজানের বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু পণ্যের দাম বাড়তে পারে।

সিলেট নগরের বিভিন্ন বাজারে সম্প্রতি চালানো পর্যবেক্ষণ ও প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবজির বাজারে দাম বেশ চড়া। ২১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বেগুনের দাম প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং নতুন শিম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। পটল, ঢ্যাঁড়শ ও চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে। তবে আলু ৩০ টাকা এবং পেঁপে ১৫ থেকে ২০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। বাজার ও মানভেদে এসব দামে পার্থক্য রয়েছে।

মাছ-মাংস ও ডিম কিনতেও বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। প্রকাশিত বাজারদর অনুযায়ী, ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ২৯০ থেকে ৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার মুরগি ৩৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের লাল ডিমের ডজন ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস প্রায় ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। মাছের মধ্যে রুই ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, মৃগেল ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, চাষের পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজারে আসা ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতিদিনের বাজারে এসে নতুন দামের মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের। বাড়তি দামের কারণে কেউ প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনছেন, কেউবা মাছ-মাংসের পরিমাণ কমিয়ে সংসারের ব্যয় সামলানোর চেষ্টা করছেন। আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের পেছনে ব্যয় বাড়তে থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

রমজানে ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুরের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বাড়ে। তাই এসব পণ্যের সরবরাহ, আমদানি, মজুত ও পাইকারি বাজারের পরিস্থিতি আগেভাগে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। রাজধানীর বাজার নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি রমজানকেন্দ্রিক পণ্যের দাম বাড়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে ঢাকার বাজারদরকে সিলেটের বাজারদর হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই; সিলেটে এসব পণ্যের বর্তমান দাম ও মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইকারি ক্রয়মূল্য, পরিবহন ব্যয়, সরবরাহ এবং পণ্যের মানের কারণে খুচরা দামে পরিবর্তন হতে পারে। তবে কোনো পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যৌক্তিক কি না, তা যাচাই করতে আমদানি ও উৎপাদন ব্যয়, মজুত, পাইকারি ক্রয়মূল্য এবং খুচরা বিক্রয়মূল্যের তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তা খতিয়ে দেখা উচিত।

সিলেটের বাজারে নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় রাখতে নিয়মিত বাজার তদারকি, মূল্যতালিকা প্রদর্শন নিশ্চিত করা, অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি অনুসন্ধান এবং মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ জরুরি। একই সঙ্গে পাইকারি ও খুচরা বাজারের দামের মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান থাকলে তা খতিয়ে দেখতে হবে।

রমজানকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর ভূমিকা রাখলে বাজারে স্বস্তি ফিরে আসবে।