Eng
ইসলামিক, বিয়ানীবাজার - গোলাপগঞ্জ

বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদের দুই প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শন করল মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল

প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ | ১২:২৫ অপরাহ্ণ



কামারগ্রামে ৫৬ ও খাসাড়ীপাড়ায় ৬৫ শতক জমি সরেজমিনে পরিদর্শন; সমন্বয়ে ইউএনও উম্মে হাবিবা মজুমদার

পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক :
বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত দুটি স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের কামারগ্রাম এবং বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়ায় প্রস্তাবিত জমি পরিদর্শন করা হয়। উভয় স্থান পরিদর্শন কার্যক্রমের সমন্বয় করেন বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার।

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবিত নতুন স্থান চূড়ান্তকরণে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) এ এইচ এম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে এ সফরের আয়োজন করা হয়। প্রতিনিধি দলে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক (গ্রেড-১) মুহম্মদ মুহিব্বুল্লাহিল বাকী, কমিটির অন্যান্য সদস্য এবং প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ফেরদৌস-উজ-জামানও সফরসঙ্গী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

দুটি প্রস্তাবের জমি ও অবস্থান যাচাই

সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখা থেকে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী, কামারগ্রাম মৌজায় ৫৬ শতক এবং খাসাড়ীপাড়া মৌজায় ৬৫ শতক জমিতে মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

কামারগ্রামের প্রস্তাবিত জমি চারখাই ইউনিয়নের ১৮ নম্বর জে.এল.ভুক্ত মৌজায় অবস্থিত। সরকারি পত্রে ৫৫৮, ৫৫৯ ও ৫৬৩ নম্বর দাগের জমির শ্রেণি যথাক্রমে মসজিদ, পুকুর ও ডোবা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রস্তাবিত জমির পরিমাণ ৫৬ শতক।

অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়া মৌজার ১০২ নম্বর জে.এল.ভুক্ত ১২৭ নম্বর দাগসহ সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে মোট ৬৫ শতক জমির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পত্রে এ জমির শ্রেণি ‘বাড়ি’ উল্লেখ রয়েছে।

এর আগে সিলেটের জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে উভয় প্রস্তাব সরেজমিনে পরিদর্শন করে স্থান নির্বাচন চূড়ান্ত করার সুপারিশ করেন। শুক্রবারের পরিদর্শন সেই প্রক্রিয়ারই অংশ।

খাসাড়ীপাড়া পরিদর্শনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক উদ্যোগের প্রতিনিধিরা

বিয়ানীবাজার পৌরসভার খাসাড়ীপাড়ায় প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক আতাউর রহমান, সচিব জমির হোসাইন, সমন্বয়ক শাহেদ আহমদ, লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলওয়ার হোসেন, মূড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং খাসাড়ীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি খায়রুল আলম শামীম ও সেক্রেটারি ফজলুর রহমান বাবুল, সহকারী অধ্যাপক ফয়সাল আহমদ, সাংবাদিক এম এ মুকিত সহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ সময় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক আতাউর রহমান এবং খাসাড়ীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ফজলুর রহমান বাবুল।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকল্প কর্তৃপক্ষের

ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সফরসূচিতে বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনের কথা উল্লেখ রয়েছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসকের পত্রে দুটি প্রস্তাবই সরেজমিনে পরিদর্শন করে চূড়ান্ত স্থান নির্বাচনের সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে পরিদর্শন শেষে কোন স্থান চূড়ান্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ, ভূমির শ্রেণি, অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা, প্রবেশপথ, প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা এবং প্রকল্পের নির্দেশনা বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষিত বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বাস্তবায়নে এখন পরিদর্শন-পরবর্তী মূল্যায়ন ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।