Eng
শিক্ষার খবর, সারা দেশ

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না। – দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী

প্রকাশিত: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ



পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন ডেস্ক :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো ‘অফ ডে’ রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা চালু এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির সচেতনতামূলক প্রচার ও উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলাকালে কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকেল ৪টার আগে প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতে পারবেন না। ক্লাস শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষকের পাঠদান-সংক্রান্ত দায়িত্ব না থাকলেও প্রয়োজনে তাঁকে প্রশাসনিক বা প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কাজে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, দুপুরের পর অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা উপস্থিত নেই। তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে অনেক সময় বলা হয়, শিক্ষক নেই। শিক্ষক যদি প্রতিষ্ঠানে না থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা সেখানে থাকবে কীভাবে—প্রশ্ন করেন তিনি।

শিক্ষকদের উদ্দেশে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, চাকরিতে যোগদানের সময় সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটি ভোগের কোনো বিধান ছিল না। ধীরে ধীরে একটি অনিয়মের চর্চা তৈরি হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, “সরকারি ছুটির বাইরে কোনো ‘অফ ডে’ থাকবে না।”

সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি ছুটির বাইরে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে হয় তাঁদের। শিক্ষকদেরও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করার কথা বলেন মন্ত্রী। শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন।

‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি বলেন, কর্মসূচি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বেড়েছে। সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা গেলে উদ্যোগটি আরও কার্যকর হবে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মুহা. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ বি এম ফারুক সিদ্দিকসহ জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।