শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগের এক মাসের অর্জন ও অগ্রগতি পোড়া রোগীর চিকিৎসায় দক্ষতা বাড়াতে চীন সফরে ডা. আবু ইসহাক আজাদ রূপকের দশটি শিক্ষা: একজন বাবার রেখে যাওয়া নৈতিক উত্তরাধিকার শিকড়ের টানে আশেক আহমদ আসুক—শিক্ষার অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদান যার যোগ্যতা নেই, সে কেন যোগ্যতার আসনে? দুই মামলায় কারাগারে পল্লব: বিয়ানীবাজারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানকে জেলহাজতে পাঠালেন আদালত মানুষ : নিজের কাছেই পরাধীন বিয়ানীবাজারে তালামীযে ইসলামিয়ার ২০২৬-২৭ সেশনের কাউন্সিল সম্পন্ন বাটেরা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব: সরাসরি সিলেট আদালতে তোলা হচ্ছে!  বিয়ানীবাজার মডেল মসজিদের দুই প্রস্তাবিত স্থানই গাইডলাইন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে যাচাই হবে: জেলা প্রশাসক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩৪ বার পড়া হয়েছে

দ্রোহ, সাম্য, প্রেম ও মানবতার চেতনায় আজও অমর ‘বিদ্রোহী কবি’

পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন ডেস্ক | ২৭ আগস্ট ২০২৬

দ্রোহ, প্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার অমর কবি, বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। বাংলা ১৩৮৩ বঙ্গাব্দের ১২ ভাদ্র তিনি ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পাঁচ দশক পরও তাঁর কবিতা, গান ও দর্শন অন্যায়-অত্যাচার, শোষণ-বঞ্চনা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে মানুষের প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।

১৮৯৯ সালের ২৪ মে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া নজরুল বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য প্রতিভার নাম। কবিতা, গান, গল্প, উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতার নানা ক্ষেত্রে তাঁর সৃষ্টিশীলতার স্বাক্ষর রয়েছে। ১৯২২ সালে প্রকাশিত ‘বিদ্রোহী’ কবিতা তাঁকে ‘বিদ্রোহী কবি’ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন, সামাজিক বৈষম্য, শোষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে নজরুলের কলম ছিল আপসহীন। একই সঙ্গে তাঁর সাহিত্যজুড়ে উচ্চারিত হয়েছে প্রেম, সাম্য, মানবমুক্তি ও ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা। হিন্দু-মুসলিমসহ সব মানুষের ঐক্য ও অসাম্প্রদায়িক সমাজের স্বপ্ন তাঁর সৃষ্টিকে দিয়েছে সর্বজনীন আবেদন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে কবিকে সপরিবারে স্বাধীন বাংলাদেশে নিয়ে আসা হয়। পরে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে নাগরিকত্ব প্রদান করে। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে এবং ১৯৭৬ সালে তিনি একুশে পদকে সম্মানিত হন।

১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকার তৎকালীন পিজি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের পর কবিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। তাঁর সমাধি আজও বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন।

নজরুল আজও প্রাসঙ্গিক

নজরুলের মৃত্যু হয়েছে পাঁচ দশক আগে; কিন্তু তাঁর চিন্তা ও চেতনার মৃত্যু হয়নি। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, সাম্য ও অসাম্প্রদায়িকতার যে দর্শন তিনি রেখে গেছেন, তা আজও সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।

তাঁর অমর উচ্চারণ—‘উন্নত মম শির’—আজও বাঙালিকে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার সাহস জোগায়। তাই নজরুল কেবল একটি সময়ের কবি নন; তিনি চিরকালীন মানবতার কবি, মুক্তির কবি, বাঙালির জাগরণের কবি।

জাতীয় কবির ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন পোর্টালের পক্ষ থেকে মহান কবির স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews