
সচেতন না হলে বাড়তে পারে খাদ্যবাহিত রোগের আশঙ্কা
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক:
বর্তমান ব্যস্ত জীবনে অনেক সময় একবার রান্না করা খাবার পরে আবার গরম করে খাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, কিছু খাবার বারবার গরম করলে তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর উপাদান তৈরি হতে পারে। ফলে হজমের সমস্যা, খাদ্যে বিষক্রিয়া বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের খাবারগুলো বারবার গরম করে খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন—
১. মাশরুম
মাশরুমে থাকা প্রোটিন বারবার গরম করলে ভেঙে যেতে পারে। এতে হজমের সমস্যা ও পেটের অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
২. পালং শাক
পালং শাকে প্রাকৃতিকভাবে নাইট্রেট থাকে। বারবার গরম করলে তা নাইট্রাইটে রূপ নিতে পারে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
৩. চা
চা বারবার গরম করলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কমে যায় এবং ট্যানিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে এসিডিটি বা পেটের অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
৪. ভাজা তেল (পুনঃব্যবহৃত তেল)
একই তেল বারবার গরম করলে এতে ট্রান্স ফ্যাট ও ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি হতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৫. ভাত
দীর্ঘ সময় বাইরে রাখা ভাত আবার গরম করলে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা ফুড পয়জনিংয়ের কারণ হতে পারে।
৬. আলু
রান্না করা আলু দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে পরে গরম করলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি থাকে।
৭. ডিম
ডিম বারবার গরম করলে এর প্রোটিনের গঠন পরিবর্তিত হতে পারে এবং হজমে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৮. মুরগির মাংস
চিকেন বারবার গরম করলে প্রোটিনের গঠন বদলে গিয়ে হজমে অসুবিধা হতে পারে।
৯. বিট
বিটে থাকা নাইট্রেট বারবার গরম করলে ক্ষতিকর যৌগে রূপ নিতে পারে।
১০. সেলারি
সেলারিতেও নাইট্রেট থাকে, যা বারবার গরম করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
১১. গাজর
গাজর বেশি সময় রেখে বারবার গরম করলে এর পুষ্টিগুণ কমে যায় এবং স্বাদ নষ্ট হয়।
১২. ডাল
ডাল বারবার গরম করলে এর পুষ্টিমান কমে যেতে পারে এবং পেটে অস্বস্তি সৃষ্টি করতে পারে।
১৩. পাস্তা
রান্না করা পাস্তা দীর্ঘ সময় বাইরে রেখে পরে গরম করলে ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা থাকে।
১৪. সামুদ্রিক মাছ
মাছ বারবার গরম করলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং কখনও হজমের সমস্যা হতে পারে।
১৫. দুধ
দুধ বারবার গরম করলে এর পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে এবং অম্লতার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
করণীয়
পুষ্টিবিদরা জানান, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার রান্না করা এবং অবশিষ্ট খাবার দ্রুত ফ্রিজে সংরক্ষণ করা নিরাপদ। সাধারণত রান্না করা খাবার দুই ঘণ্টার বেশি বাইরে না রেখে সংরক্ষণ করা উচিত এবং পুনরায় গরম করলে একবারের বেশি গরম না করাই ভালো।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনতা বাড়ানোই হতে পারে নিরাপদ খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ।