রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১২:৩৫ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ৩১ জুলাই : সিলেটে তোফায়েল খানের ভোট প্রার্থনা শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতি শক্তিশালী হলে শক্তিশালী হবে গ্রাম: কৃতী সন্তান ড. খালেদ আহমেদ জাতীয় স্বীকৃতির আনন্দে মুখর খাসা: এমপি এমরানের একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি জনসংখ্যা দ্বিগুণ, জনবল সেই ১৯৮৪-এর: সংকটে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি বিয়ানীবাজার থানায় হয়রানি হতে দেব না, আইন সবার জন্য সমান: জনআস্থার প্রতীক হিসেবে থানাকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নবাগত ওসির শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি প্রস্তুতি বিষয়ক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত শাহজালাল সমবায়ে ঋণের অর্থ আটকে থাকার দাবি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির; অর্থ ফেরতের অপেক্ষায় হাজারো আমানতকারী যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর ভিসা নীতি: পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন সম্প্রীতি, সমৃদ্ধি ও পরিবর্তনের প্রত্যয়ে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬-২০২৭ নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদে এহছানে এলাহী’র দোয়া ও ভোট প্রার্থনা

না ফেরার দেশে বীর উত্তম এ কে খন্দকার

  • প্রকাশিত: শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৯৫ বার পড়া হয়েছে

মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক ও কিলো ফ্লাইটের কমান্ডারকে হারাল জাতি

মহান মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক, ‘কিলো ফ্লাইট’-এর কমান্ডার এবং বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকার, বীর উত্তম আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বার্ধক্যজনিত কারণে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৯৬ বছর।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ কে খন্দকারের মৃত্যুর খবর জানিয়ে বলেন,
“আব্দুল করিম খন্দকার, যিনি এ কে খন্দকার নামেও পরিচিত, ছিলেন একজন প্রকৃত বীর ও সত্যিকারের দেশপ্রেমিক। মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে তিনি নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। যুদ্ধের পর তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আল্লাহ তাকে জান্নাতে সুন্দর একটি স্থান দান করুন।”

এ কে খন্দকার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রখ্যাত সেনানায়ক ও দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতীক। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী ত্যাগ করে ভারতে যোগ দেন এবং মুজিবনগর সরকারের অধীনে মুক্তিবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও সামরিক অপারেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

মুক্তিযুদ্ধের সময় নাগাল্যান্ডের ডিমাপুরে তার নেতৃত্বেই গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম বিমান ইউনিট ‘কিলো ফ্লাইট’। সীমিত সম্পদ ও প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও এই ইউনিট শত্রুর বিরুদ্ধে একাধিক সাহসী ও কৌশলগত অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পুনর্গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এ কে খন্দকার। তিনি বিমান বাহিনীর প্রথম প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং বাহিনীকে একটি শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন। ২০১১ সালে তাকে দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়। তার নামানুসারেই ঢাকার কুর্মিটোলা বিমান ঘাঁটির নামকরণ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় ছিলেন এ কে খন্দকার। ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পাবনা-২ (বেড়া–সুজানগর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং দায়িত্বশীল রাজনীতির পরিচয় দেন।

ব্যক্তিজীবনে এ কে খন্দকার ছিলেন সজ্জন, বিনয়ী ও দেশপ্রেমে অনন্য এক ব্যক্তিত্ব। তিনি দুই ছেলে, এক কন্যা ও তিন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। এর আগে গত ৮ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার সহধর্মিণী ফরিদা খন্দকার ইন্তেকাল করেন।
তার মৃত্যুতে দেশ হারাল একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, দক্ষ সামরিক নেতা ও প্রাজ্ঞ রাষ্ট্রনায়ক। জাতি চিরকাল কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে এ কে খন্দকারের অবদান ও ত্যাগকে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews