পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক : দীর্ঘ ৩৭ বছরের শিক্ষকতা জীবনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরে গেলেন দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: আতাউর রহমান। ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ে এক সংক্ষিপ্ত আনুষ্ঠানিকতায় প্রধান শিক্ষকের প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয় বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো: মিছবাহ উদ্দিনের কাছে, যিনি এখন থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন।
এদিকে প্রধান শিক্ষক পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের জন্য এডহক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যিনি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন, তাকে চার হাজার টাকা সম্মানি হিসেবে প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
প্রাপ্ত সূত্রমতে, সরকারি বিধি অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র (স্মারক নং- শিম/শাঃ১১/৩-৯/২০১১/২৫৬; তারিখ: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩) অনুসারে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদের কর্মকর্তা ব্যতীত অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক করা যাবে না। সেই নির্দেশনা মেনেই এই দায়িত্ব হস্তান্তর কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় প্রধান শিক্ষক মো: আতাউর রহমান বিদ্যালয়ের যাবতীয় প্রশাসনিক, একাডেমিক ও আর্থিক নথিপত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক মো: মিছবাহ উদ্দিনের নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন। এর মধ্যে ছিলো বিদ্যালয়ের রেজিস্টার, অফিস কাগজপত্র, ব্যাংক হিসাব, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের তথ্য, আসবাবপত্র ও ল্যাব সামগ্রীর তালিকা, চলমান প্রশাসনিক ফাইল ও উন্নয়নমূলক কাজের পরিকল্পনা।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সহকারী প্রধান শিক্ষক সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে দায়িত্ব ঘুরিয়ে দিতে হবে জ্যেষ্ঠতম ৩ জনের মধ্যে অন্য কাউকে, যাতে স্থায়ী নিয়োগের আগেই ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তার না ঘটে।
দায়িত্ব হস্তান্তর প্রসঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, “দাসউরা উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, আমার জীবনের বড় অংশ। আমি বিশ্বাস করি, পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্ব বিদ্যালয়কে আরও উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেবে।”
অন্যদিকে দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো: মিছবাহ উদ্দিন বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের উত্তরোত্তর অগ্রগতির জন্য শিক্ষকমণ্ডলী ও পরিচালনা কমিটিসহ সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।”
এসময় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক প্রতিনিধি ও আজীবন দাতা সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যালয়ের সুষ্ঠু প্রশাসন ও নিয়মিত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এই দায়িত্ব হস্তান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।