
৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোট আজ
পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন ডেস্ক, ২০ আগস্ট ২০২৬: দীর্ঘ ৩৫ বছর পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্য দিয়ে আজ বৃহস্পতিবার দেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জাতীয় সংসদ ভবনের প্লেনারি হলে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে।
এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ।
ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করবেন। পরে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির নামে গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।
ভোটার ৩৪৯ সংসদ সদস্য
সংরক্ষিত নারী আসনসহ জাতীয় সংসদের মোট সদস্য ৩৫০ জন। তবে বিএনপির সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর সদস্যপদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় এবারের নির্বাচনে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ কার্যকর থাকবে। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ভোট দিলে সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সদস্যপদ শূন্য হওয়ার সাংবিধানিক বিধান প্রযোজ্য হবে।
ভোট গ্রহণ নির্বিঘ্ন করতে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে সংসদ সদস্যদের ব্যালট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভোটের শুরুতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ভোট দেওয়ার দৃশ্য, ভোট গ্রহণের শেষ পর্যায় এবং ভোট গণনা ও ফল ঘোষণা সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা রয়েছে।
আগামীকাল শপথ
নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এবারের নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে বলেছেন, দীর্ঘ বিরতির পর প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় এতে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর দেশে আর কোনো রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়নি।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস আওয়ামী লীগের মনোনীত সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে পরাজিত করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এরপর প্রায় সাড়ে তিন দশক পর আবারও দুই প্রার্থীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয়কে অনেকটাই নিশ্চিত হিসেবে দেখা হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের কারণে এবারের ভোট রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




