মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৩৭ অপরাহ্ন
সর্বশেষ :
২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন শুরু: আবেদন চলবে ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, স্বাস্থ্যগত কারণে ৭ শ্রেণির ব্যক্তি হজে যেতে পারবেন না জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন ৩১ জুলাই : সিলেটে তোফায়েল খানের ভোট প্রার্থনা শ্রীধরা জনমঙ্গল সমিতি শক্তিশালী হলে শক্তিশালী হবে গ্রাম: কৃতী সন্তান ড. খালেদ আহমেদ জাতীয় স্বীকৃতির আনন্দে মুখর খাসা: এমপি এমরানের একাধিক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি জনসংখ্যা দ্বিগুণ, জনবল সেই ১৯৮৪-এর: সংকটে বিয়ানীবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের নতুন কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম, আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী চট্টগ্রাম রেঞ্জে বদলি বিয়ানীবাজার থানায় হয়রানি হতে দেব না, আইন সবার জন্য সমান: জনআস্থার প্রতীক হিসেবে থানাকে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নবাগত ওসির শ্রীধরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি প্রস্তুতি বিষয়ক অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত শাহজালাল সমবায়ে ঋণের অর্থ আটকে থাকার দাবি প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির; অর্থ ফেরতের অপেক্ষায় হাজারো আমানতকারী যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর ভিসা নীতি: পড়াশোনা শেষে দেশ ছাড়তে সময় মাত্র ৩০ দিন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচন: শিক্ষার্থীদের আস্থায় পরিবর্তনের সুর, কড়া নিরাপত্তায় ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৪৩৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংবাদদাতা:

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর রাত পোহালেই অনুষ্ঠিত হবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন। ছয় বছরের বিরতির পর আগামীকাল (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ব্যালটে ভোটযুদ্ধ চলবে। শিক্ষার্থীরা আগামী এক বছরের জন্য নির্বাচিত করবেন তাদের প্রতিনিধিদের।

এ ভোটকে ঘিরে পুরো ক্যাম্পাসে এখন উৎসবের আমেজ, তবে সঙ্গে রয়েছে উদ্বেগও। প্রার্থীরা টানা দুই সপ্তাহের প্রচারণা শেষে রোববার রাত ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণা শেষ করেছেন। এদিকে শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশে প্রচলিত রাজনীতির বাইরে গিয়ে ছাত্ররাজনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে ভোটের দিন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

● জরিপে নতুন ধারা: স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি আস্থা

ঢাবি রিসার্চ সোসাইটির পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, ছাত্রসমাজের একটি বড় অংশ স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করেছে। ৯০০ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে পরিচালিত জরিপে ৩১০ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, শিবির সমর্থিত প্যানেলে ১৬৭ জন এবং ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলে ১৩১ জন শিক্ষার্থীর ঝোঁক রয়েছে।

গবেষকরা মনে করছেন, এটি প্রচলিত দলীয় রাজনীতির বাইরে একটি নতুন ধারা তৈরি করছে। তবে ভোট না দেওয়ার প্রবণতাও লক্ষণীয়। রাজনৈতিক হতাশা, অনাস্থা ও ভয়/চাপকে এর মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

● শিক্ষার্থীদের মনোভাব ও প্রধান ইস্যু

  • ভোট দিতে আগ্রহী: ৭৬৩ জন শিক্ষার্থী
  • ভোট দিতে অনাগ্রহী: ১০২ জন শিক্ষার্থী
  • সিদ্ধান্তহীন (Swing Voter): ১১৮ জন শিক্ষার্থী

শিক্ষার্থীরা ন্যায়পরায়ণতা, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব ও নেতৃত্বের দক্ষতাকে ভোট প্রদানের ক্ষেত্রে প্রধান বিবেচ্য হিসেবে দেখছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৫০৪ জন শিক্ষার্থী ব্যক্তিত্ব ও ন্যায়পরায়ণতাকে, আর ২৭৩ জন নেতৃত্বের দক্ষতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

● নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা জোরদার

নির্বাচন ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের সাতটি প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার রাত ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত সাধারণের জন্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ সীমিত থাকবে। বৈধ আইডি কার্ডধারী শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও জরুরি সেবার যানবাহন ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।

প্রধান রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক জসীম উদ্দীন জানিয়েছেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসন শতভাগ প্রস্তুত।” ভোটকেন্দ্রে কারচুপি ঠেকাতেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

● ত্রিমুখী লড়াইয়ের পূর্বাভাস

বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এবারের ডাকসু নির্বাচনে ভিপি, জিএস ও এজিএস পদে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উত্থান, বিভিন্ন সৃজনশীল প্রচারণা কৌশল এবং ‘সুইং ভোটার’-দের অবস্থান—সবকিছু মিলিয়ে নির্বাচন ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।

বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে ভিপি পদে মূল লড়াই হবে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল-সমর্থিত প্যানেলের আবিদুল ইসলাম খান, ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের সাদিক কায়েম এবং স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী প্রার্থী–র শামিম হোসেন’র মধ্যে।

জিএস পদে ত্রিমুখী প্রতিযোগিতা দেখা দিতে পারে ছাত্রদল প্যানেলের তানভীর বারী হামিম, শিবির প্যানেলের এস এম ফরহাদ ও গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ সমর্থিত প্যানেলের আবু বাকের মজুমদারের মধ্যে।
এজিএস পদে লড়াইয়ে এগিয়ে আছেন ছাত্রদল সমর্থিত তানভীর আল হাদী মায়েদ ও শিবির সমর্থিত মুহিউদ্দীন খান।

এছাড়াও ভিপি পদে: ৪৪ জন প্রার্থী, জিএস পদে: ১৯ জন প্রার্থী, এজিএস পদে: ২৫ জন প্রার্থী, বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে: মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক ১৭, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ১২, কমনরুম সম্পাদক ১১, স্বাস্থ্য সম্পাদক ১৫, ক্যারিয়ার সম্পাদক ১৫, সমাজসেবা সম্পাদক ১৭, পরিবহন সম্পাদক ১২, ক্রীড়া সম্পাদক ১৩, গবেষণা সম্পাদক ৯, সাহিত্য সম্পাদক ১৯, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১৪, মানবাধিকার সম্পাদক ১১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে: ২১৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

● প্রচারণায় নতুনত্ব, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ

প্রার্থীরা অভিনব কৌশলে প্রচারণা চালিয়েছেন—কেউ এক হাজার টাকার নোট কিংবা মার্কিন ডলারের আদলে লিফলেট ছেপেছেন, কেউবা বিড়াল, ব্যাড-বল বা হাতপাখা ব্যবহার করেছেন। শেষ সময় পর্যন্ত জমজমাট প্রচারণা হলেও এবারের পরিবেশ তুলনামূলকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল। বড় কোনো সংঘর্ষ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

সব মিলিয়ে আগামীকালের ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা—একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক ভোট, যা নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে নতুন ধারার জন্ম দিতে পারে।

Leave a Reply

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
Theme Customized By BreakingNews