
পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক: সিলেটের বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন রাখতে দুই উপজেলাতেই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করে।
গোলাপগঞ্জে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিশ্বে বিরল। ধর্ম যার যার, কিন্তু নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। এ ঐতিহ্য অটুট রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, সব নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
মঙ্গলবার রাতে গোলাপগঞ্জের ছিটা ফুলবাড়ী, ঢাকাদক্ষিণ ও লক্ষ্মীপাশার কয়েকটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছবেদ আলী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিএনপি নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এদিন তিনি প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ ঘোষগাঁও-বাউসী সড়কের পুনর্বাসন ও সংস্কারকাজেরও উদ্বোধন করেন।
অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলায় ৪২টি সর্বজনীন ও ১১টি ব্যক্তিগতসহ মোট ৫৩টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। উৎসব উপলক্ষে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, সিসিটিভি নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সাইবার মনিটরিং জোরদার করা হয়। পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবির।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, উৎসবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি কিংবা গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির চেষ্টা করলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল।
বিয়ানীবাজার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চক্রবর্তী ও পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি বিবেকানন্দ দাস উৎসব সফল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদযাপন কমিটি ও স্থানীয় মানুষের সম্মিলিত সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন।
প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলেও দুই উপজেলায় দুর্গোৎসব ঘিরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে পড়ে।




