Eng
বিয়ানীবাজার - গোলাপগঞ্জ

চুরির আতঙ্কে রাত জাগছে বিয়ানীবাজারের তরুণরা : পাড়া-মহল্লায় স্বেচ্ছাপ্রহরা

প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ | ৫:১৩ পূর্বাহ্ণ



পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক:

বিয়ানীবাজারে সাম্প্রতিক চুরির ঘটনায় উদ্বেগের মধ্যে নিজেদের এলাকার নিরাপত্তায় রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন তরুণ-যুবকেরা। ‘আপনি ঘুমান, আমরা গ্রাম পাহারা দেব’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন এলাকায় পালাক্রমে পাহারার ব্যবস্থা করেছেন স্থানীয়রা। পৌরশহরের খাসাড়িপাড়ায় এ উদ্যোগ বেশ সংগঠিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

গত কয়েক মাসে বিয়ানীবাজার থানা এলাকায় বেশ কয়েকটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে পৌরশহরের বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ২০টি গ্যাস রাইজার চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়। বাসাবাড়িতেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় নারীসহ অন্তত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিজেদের উদ্যোগে রাতের পাহারা

চুরির ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকার তরুণরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় করে রাতে পাহারায় নামেন। খাসাড়িপাড়া এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে একাধিকবার বৈঠকও করেছেন বাসিন্দারা।

বৈঠকে এলাকার প্রবেশপথ, মোড় ও অলিগলিতে পালাক্রমে পাহারার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি বা পরিস্থিতি দেখা দিলে দ্রুত স্থানীয়দের জানানোর জন্য যোগাযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান রুমেল বলেন, গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এলাকার মানুষ পালাক্রমে এতে অংশ নিচ্ছেন।

পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবীর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় তরুণ ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টহল জোরদারের উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের পক্ষ থেকে রাতের বেলায় অপরিচিত ব্যক্তির চলাচলের বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে কাউকে দেখলেই আক্রমণাত্মক না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ওসি।

তিনি বলেন, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে প্রথমে নম্রভাবে কথা বলতে হবে। তার কথাবার্তা ও আচরণ তার দেওয়া পরিচয় বা উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা খেয়াল করতে হবে। একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে অযথা হয়রানির শিকার না হন, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিতেও জোর

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ সাড়া দেওয়ার সময় কমানো, গোয়েন্দা তথ্যের ব্যবহার বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টহল জোরদার, অভিযানে বডি ক্যামেরা ব্যবহার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া থানায় দর্শনার্থী ব্যবস্থাপনা ও অনলাইন নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও কাজ চলছে বলে পুলিশ সূত্র জানিয়েছে।

সতর্কতা, তবে আইন নিজের হাতে নয়

স্থানীয়দের রাতের পাহারা অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। তবে সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক, মারধর বা হয়রানি না করে বিষয়টি পুলিশকে জানানো জরুরি। কারণ অপরিচিত হওয়া মানেই কেউ অপরাধী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

বিয়ানীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় তরুণদের এই স্বেচ্ছাপ্রহরা মূলত নিজেদের বসতবাড়ি ও এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের সচেতনতার প্রকাশ। পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে এবং আইন মেনে এ ধরনের উদ্যোগ পরিচালিত হলে স্থানীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় তা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।