Eng
বিশেষ প্রতিবেদন

অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন, বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ



পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন ডেস্ক  : কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের (১৩) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। একই সঙ্গে তার হত্যার বিচার দাবিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

পরে নিজ বাড়িতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাড়ির পাশে গন্ধমতি বড় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হলো কিশোর অপ্রতিম।

এদিকে জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা মহাসড়ক অবরোধ করে হত্যার প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানান।

অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, যানজট কয়েক কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন নিয়ে অবস্থান করছেন এবং হত্যার বিচার দাবিতে নানা স্লোগান দিচ্ছেন।

ময়নামতি হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিছুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে রেখেছেন। এতে উভয় পাশে যানজট বাড়ছে। শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হবে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম

অপ্রতিম কুমিল্লা কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় সে। এরপর আর বাসায় ফেরেনি।

পরে অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন। নিখোঁজের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে।

একটি সিসিটিভি ফুটেজে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে এক কিশোরকে দেখা যায়। ওই কিশোরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে মরদেহ উদ্ধার

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন ঝোপ থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায় বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তুহিন (১৯) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। পরে আনাস নামের আরও একজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আইফোন নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, হত্যার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।