পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক | সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম ইউনিয়ন ৭নং মাথিউরা। উপজেলা সদর থেকে ইউনিয়ন পরিষদের দূরত্ব প্রায় ৪ দশমিক ৫০ কিলোমিটার। ১৪ দশমিক ৮২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এ ইউনিয়নটি ১৮টি গ্রাম নিয়ে গঠিত। গ্রামগুলো হলো—দুধবকশী, পুরুষপাল, ছবিলপুর, পশ্চিমপার, শেখলাল, রায়বাসী, সুতারকান্দি, পূর্বপার, লাসাইতলা, উত্তরপার, দোয়াখা, খলাগ্রাম, মিনারাই, কান্দিগ্রাম, আরেংগাবাদ, নালবহর, বেজগ্রাম ও চক।
ঐতিহ্য ও জনবসতির দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এ ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন গ্রাম ও ওয়ার্ড থেকে একাধিক ব্যক্তির নাম সামনে আসায় নির্বাচনী সমীকরণ নিয়েও চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় পর্যায়ের আলোচনা ও প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন উত্তর মাথিউরার আব্দুল ফাত্তাহ বকসী, পশ্চিমপারের সাবেক চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আব্দুর রব কছির আলী, পশ্চিমপারের মাওলানা শাব্বির আহমদ খান, নালবহরের যুবদল নেতা সাকের মাহমুদ, শেখলালের ছাত্রদল নেতা এনামুল ইসলাম, ৭নং ওয়ার্ডের আঞ্চলিক প্রার্থী হিসেবে আলোচিত সাংবাদিক আহমেদ ফয়সাল এবং পশ্চিমপারের প্রবাসী কমিউনিটি নেতা রাহুল এ রহমান।
আলোচনায় থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় নেতা, সাবেক নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং স্থানীয়ভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্ব রয়েছেন। তাঁদের কেউ দলীয় পরিচয়ে, কেউ আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব, আবার কেউ ব্যক্তিগত ও সামাজিক অবস্থানের কারণে আলোচনায় এসেছেন। তবে এসব নাম এখনো সম্ভাব্য প্রার্থীর পর্যায়ে রয়েছে; আনুষ্ঠানিক প্রার্থিতা ঘোষণা হয়নি।
মাথিউরা ইউনিয়ন পরিষদের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯৭৪ সালের ১১ মার্চ পর্যন্ত সরকার মনোনীত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক মো. আকাদ্দছ সিরাজুল ইসলাম। এরপর ১৯৭৪ সালের ১২ মার্চ থেকে ১৯৭৭ সালের ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রথম নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন মো. আজির উদ্দিন। ১৯৭৭ সালের ৩১ মার্চ থেকে ১৯৭৯ সালের ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মো. খলকুর রহমান।
পরবর্তী সময়ে ১৯৮৩ সালের ২৯ মার্চ থেকে ১৯৮৬ সালের ১০ আগস্ট পর্যন্ত চেয়ারম্যান ছিলেন মো. আব্দুল আলীম। ১৯৮৮ সালের ১৯ জুলাই থেকে ১৯৯১ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন মো. লুৎফুর রহমান খান। এরপর ১৯৯২ সালের ১১ মে থেকে ১৯৯৮ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আব্দুল হান্নান এবং ১৯৯৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০০৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত মো. জমির উদ্দিন চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন।
২০০৩ সালের ১ এপ্রিল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. আতাউর রহমান খান। তিনি ২০০৫ সালের ১৯ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। এরপর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সিহাব উদ্দিন। তিনি জেনারেল ওসমানী স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিত। পরবর্তী সময়ে নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. আমান উদ্দিন। তবে ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের আলোকে তাঁকে চেয়ারম্যান পদ থেকে অপসারণ করে পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর আর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
বিভিন্ন সময়ে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্যবর্তী পর্যায় থাকলেও এখানে মূলত নির্বাচিত ও নিয়মিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীদের ধারাবাহিকতা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের ঘিরে দলীয় সমর্থন, গ্রাম ও ওয়ার্ডভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব, ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনা গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ভোটারদের আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে।
১৮টি গ্রামের সমন্বয়ে গঠিত এ ইউনিয়নে গ্রামভিত্তিক প্রত্যাশা ও নাগরিক চাহিদার পাশাপাশি সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনাও নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার সমান উন্নয়ন, সুষম নাগরিক সেবা এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রশ্নও ভোটারদের বিবেচনায় থাকবে।
নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের পর আলোচনায় থাকা সম্ভাব্য প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে সাক্ষাৎকার গ্রহণের উদ্যোগ নেবে পঞ্চখণ্ড আই। তাঁদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক অবস্থান, উন্নয়ন পরিকল্পনা, অগ্রাধিকার এবং ভোটারদের প্রতি অঙ্গীকার সম্পর্কে জানতে চাওয়া হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ ভোটারদের মতামতও তুলে ধরা হবে।
মাথিউরা ইউনিয়নের নেতৃত্বের অতীত ইতিহাস, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে পঞ্চখণ্ড আই। আলোচনায় থাকা নামগুলো পরিবর্তিত হতে পারে; আনুষ্ঠানিক তফসিল ও প্রার্থিতা ঘোষণার পরই নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতার পূর্ণাঙ্গ চিত্র স্পষ্ট হবে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯