একটি গ্লাস পূর্ণ থাকলে তাতে নতুন করে কিছু ঢালা যায় না। মানুষের মনও তেমন। অহংকার, জেদ, প্রতিহিংসা আর অতীতের বোঝায় মন যখন পূর্ণ হয়ে যায়, তখন সেখানে নতুন চিন্তা, সত্য কিংবা সুন্দর কোনো ধারণার জায়গা থাকে না।
আমরা সমাজ বদলাতে চাই, রাষ্ট্র বদলাতে চাই, নেতৃত্ব বদলাতে চাই—কিন্তু খুব কম মানুষই নিজেকে বদলানোর কথা ভাবি। অথচ পরিবর্তনের সবচেয়ে ছোট এবং সবচেয়ে শক্তিশালী জায়গাটি হলো নিজের মন।
যে মানুষ নিজের ভুল স্বীকার করতে জানে না, সে অন্যের ভুল সংশোধন করতে পারে না। যে নিজে অন্যের কথা শুনতে শেখেনি, সে সমাজে সহনশীলতার শিক্ষা দিতে পারে না। আর যে নিজের ভেতরের লোভ, অহংকার ও হিংসাকে জয় করতে পারেনি, সে বড় বড় পরিবর্তনের কথা বললেও তার পরিবর্তন অসম্পূর্ণ থেকে যায়।
খালি হওয়া মানে শূন্য হয়ে যাওয়া নয়; অপ্রয়োজনীয় জিনিস সরিয়ে নতুনের জন্য জায়গা তৈরি করা।
কিছু অহংকার ছাড়তে হবে, কিছু পুরোনো ক্ষোভ ভুলতে হবে, কিছু ভুল ধারণাকে প্রশ্ন করতে হবে। কখনো বলতে হবে—‘আমি ভুল করেছি।’ কখনো বলতে হবে—‘তোমার কথাটাও শুনি।’ আবার কখনো নিজের স্বার্থের বাইরে গিয়ে অন্যের অধিকারকে স্বীকার করতে হবে।
পরিবারে পরিবর্তন চাইলে শুরু হোক আচরণে। সমাজে পরিবর্তন চাইলে শুরু হোক নাগরিক দায়িত্বে। রাষ্ট্রে পরিবর্তন চাইলে শুরু হোক সততা, ন্যায়বোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা থেকে। কারণ রাষ্ট্র কোনো বিমূর্ত সত্তা নয়; রাষ্ট্র গড়ে ওঠে মানুষের চরিত্র, মূল্যবোধ ও আচরণের ওপর।
আমরা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলি, অথচ সুযোগ পেলে নিয়ম ভাঙতে চাই। অন্যায়ের প্রতিবাদ করি, কিন্তু নিজের স্বার্থে অন্যের অধিকার ভুলে যাই। ভালো নেতৃত্ব চাই, অথচ নিজের জীবনে দায়িত্বশীলতার অনুশীলন করি না। এই দ্বৈততা দূর না হলে পরিবর্তন কেবল স্লোগান হয়, বাস্তবতা হয় না।
তাই পরিবর্তনের প্রশ্নটি আগে নিজের কাছেই রাখা দরকার— আমি কি বদলাতে প্রস্তুত? আমি কি ভুল স্বীকার করতে পারি? আমি কি ভিন্নমতকে সম্মান করি? আমি কি আমার সন্তানকে শুধু সফল হতে শেখাই, নাকি ভালো মানুষ হতেও শেখাই?
দেশ বদলের স্বপ্ন অবশ্যই দেখতে হবে। কিন্তু সেই স্বপ্নের প্রথম ঠিকানা কোনো ভবন, কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা কোনো ক্ষমতার কেন্দ্র নয়—মানুষের মন।
মন বদলালে দৃষ্টিভঙ্গি বদলায়। দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে আচরণ বদলায়। আচরণ বদলালে পরিবার বদলায়। পরিবার বদলালে সমাজ বদলায়। আর সমাজ বদলালেই রাষ্ট্রের পরিবর্তন টেকসই হয়।
তাই নতুন দিনের জন্য শুধু নতুন কিছু চাইলে হবে না; নিজের ভেতরেও নতুনের জন্য একটু জায়গা তৈরি করতে হবে। কারণ পরিবর্তনের প্রথম ঠিকানা বাইরে নয়— মানুষের মনেই।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯