বিশেষ প্রতিবেদক:
‘পরিচয়ের চেয়ে মানুষ সম্পর্কে জানাটাই শ্রেয়’—এমন বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের পাশে থাকার কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন মো. মিফতাহুল বর চৌধুরী (কয়ছর)। একই সঙ্গে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯নং রাজাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে এলাকাবাসীর পরামর্শ ও সমর্থনকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন এই শিক্ষক।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের একটি ছবি ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে মিফতাহুল বর চৌধুরী বলেন, পরিচয় নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের জন্যই অনিচ্ছা সত্ত্বেও ছবিটি প্রকাশ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, মানুষের পরিচয়ের চেয়ে মানুষটি সম্পর্কে জানা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

নিজের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, প্রচার বা লোকদেখানোর উদ্দেশ্যে তিনি মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাননি। এলাকায় না থাকায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি আলীম উদ্দিন এলিম মেম্বার ও অন্যদের সহযোগিতায় বিভিন্ন সময়ে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করেন। তাঁর দাবি, ঘর নির্মাণে সহায়তা, মেডিক্যাল ক্যাম্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং অন্যের মাধ্যমে নগদ অর্থ দিয়ে সহায়তা করার মতো বিভিন্ন উদ্যোগেও তিনি যুক্ত ছিলেন। এসব কর্মকাণ্ড প্রকাশ করে কাউকে ছোট করতে চাননি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসব বিষয় প্রকাশ করাকে তিনি স্বস্তির সঙ্গে দেখছেন না। স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, পোস্টটি পরে মুছে ফেলবেন এবং অন্যদেরও তা শেয়ার না করার অনুরোধ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে—জনসেবার কাজ প্রচারের চেয়ে নীরবে মানুষের পাশে থাকাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
অন্যদিকে, রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হওয়ার প্রসঙ্গে মিফতাহুল বর চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতাকে সামনে এনেছেন। তিনি জানান, ১৯৮৬ সালে সুরমা স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষকতা করে আসছেন। চলতি বছরের জুন মাসের শেষে তাঁর অবসর নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপযুক্ততার মাপকাঠিতে এলাকাবাসীর বিবেচনায় তিনি যদি গ্রহণযোগ্য হন এবং তাঁদের সমর্থন ও পরামর্শ পান, তাহলে চেয়ারম্যান হিসেবে আগামী পাঁচ বছর রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।
তবে নিজের প্রার্থিতাকে চূড়ান্ত ঘোষণা না করে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথাই বলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে, ‘আপনাদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নিবো’—এই অবস্থানটি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
মিফতাহুল বর চৌধুরীর শিক্ষকতা জীবনের পরিসরও দীর্ঘ। সুরমা উচ্চবিদ্যালয়, হাজি আব্দুল আহাদ উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ, গাছবাড়ি মডার্ণ একাডেমি এবং সর্বশেষ দেউলগ্রাম দ্বি-পাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষক তালিকাতেও তাঁকে দেউলগ্রাম দ্বি-পাক্ষিক উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং প্রধান পরীক্ষক (ইংরেজি) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে দীর্ঘ কর্মজীবনে অনেক শিক্ষার্থীকে গড়ে তোলার তৃপ্তির পাশাপাশি কোথাও ব্যর্থতার দায় নিজের ওপর নেওয়ার মানসিকতা। ‘সফলতা সবার এবং ব্যর্থতা মনে করি আমার’—এমন আত্মসমালোচনামূলক বক্তব্যও তিনি দিয়েছেন।
শিক্ষকতা জীবনের শেষপ্রান্তে এসে শিল্পী পথিক নবীর একটি গানের পঙ্ক্তির উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন—
‘কষ্টের গায়ে লাল জামা, বেদনার গায়ে নীল; সুখের গায়ে নেই জামা, সে উলঙ্গ অনাবিল।’
চেয়ার ছাড়ার প্রসঙ্গে তাঁর অনুভূতিও ছিল শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক। তাঁর ভাষায়, চেয়ার ছাড়ার জন্য নয়, বরং শিক্ষার্থীদের ছেড়ে যাওয়ার জন্যই কষ্ট হবে। দীর্ঘ কর্মজীবনে মানুষের ভালোবাসা ও শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধাকে তিনি নিজের বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের সম্ভাব্য নির্বাচনকে ঘিরে তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আপাতত দুটি বিষয় সামনে এসেছে—একদিকে দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতা ও স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, অন্যদিকে নীরবে জনসেবার দাবি এবং নির্বাচনে যাওয়ার আগে জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার ঘোষণা।
তবে চেয়ারম্যান পদে তাঁর প্রার্থিতা চূড়ান্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিজেই এখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানাননি। ফলে আগামী দিনে এলাকাবাসীর সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, সম্ভাব্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সমর্থন এবং নির্বাচনী প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করবে তাঁর প্রার্থিতার পরবর্তী অবস্থান।
রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের সম্ভাব্য নির্বাচনী পরিবেশে তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে—দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের অভিজ্ঞতাকে তিনি স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাপনায় কাজে লাগাতে পারবেন কি না, কিংবা এলাকাবাসী তাঁর প্রার্থিতাকে কীভাবে দেখছেন—তা এখন সময়ের সঙ্গে স্পষ্ট হবে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯