
পপঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক :
নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের তৎপরতা বাড়ায় সারা দেশে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরির কাজ চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকা প্রস্তুত হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান শনাক্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ হবে।
সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দেশের প্রতিটি থানায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও মহিলা লীগের নেতাকর্মীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তালিকায় নাম, পদবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও অন্যান্য যোগাযোগের তথ্য রাখা হচ্ছে। বর্তমানে কে কোথায় অবস্থান করছেন এবং বিদেশে থাকা নেতাদের সঙ্গে দেশে থাকা নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রয়েছে কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে বলে তারা জানান।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা স্বল্প সময়ের ঝটিকা মিছিল করছে। কর্মসূচি শেষে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করায় তাদের শনাক্ত ও আটক করতে সময় সংকট তৈরি হচ্ছে বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে একটি মিছিলের বিষয়ে কর্মসূচি শুরুর প্রায় ১০ মিনিট আগে তথ্য পাওয়া যায়। পরে রিজার্ভ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মিছিলকারীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে ওই সূত্রের দাবি। এ ধরনের ঘটনায় আগাম তথ্য সংগ্রহ ও মাঠপর্যায়ের সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্রের আরও দাবি, নজরদারি এড়াতে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মী জুম ও হোয়াটসঅ্যাপের পরিবর্তে টেলিগ্রামসহ অন্যান্য অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছেন। বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে বৈঠক করার তথ্যও তাদের হাতে এসেছে বলে সূত্রটি জানায়। তবে এসব তথ্যের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আওয়ামী লীগ বা এর অঙ্গসংগঠনের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন অভিযোগ করা হলেও প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে দায় কার, তা পৃথকভাবে তদন্তের বিষয়।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে বাইরে থাকা নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য যোগাযোগ ও কর্মসূচি সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এসব তথ্য যাচাই করে নাশকতার সম্ভাব্য পরিকল্পনা শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
গত ১৫ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায়ের পর বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
ঢাকার কয়েকটি বিভাগ ও জোনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে এলাকাভিত্তিক তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তালিকা তৈরির পাশাপাশি সম্ভাব্য কর্মসূচি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গতিবিধির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
ডিএমপির কর্মকর্তারা বলেন, গত দুই বছর ধরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। নতুন তালিকার মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার তথ্য একত্র করা হলে প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে তারা মনে করছেন।
ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীদের চলাচল নিয়েও নজরদারি করা হচ্ছে বলে গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। কেউ কোথায় অবস্থান করছেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কিংবা কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন কি না—এসব তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের ক্রাইম অ্যান্ড অপস বিভাগের অতিরিক্ত আইজিপি সায়েদুর রহমান বলেন, যারা সন্ত্রাস করছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে তালিকা করা হচ্ছে। এটি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ এবং তালিকা তৈরির কাজ চলমান রয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তালিকা তৈরির পর তথ্য যাচাই করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলার ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




