আতাউর রহমান |পঞ্চখণ্ড আই প্রতিবেদক:
শিক্ষকতা কেবল একটি পেশা নয়—এটি মানুষ গড়ার দীর্ঘ সাধনা। শ্রেণিকক্ষের পাঠ কখনো শেষ হয়ে যায়, কিন্তু একজন শিক্ষকের প্রভাব থেকে যায় তাঁর শিক্ষার্থীদের জীবন ও কর্মে। এমনই এক দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ শিক্ষকতা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছেন অধ্যাপক মোঃ তারিকুল ইসলাম। আগামীকাল ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে তাঁর চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস।
প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে তিনি কখনো শ্রেণিকক্ষে জ্ঞান বিতরণ করেছেন, কখনো প্রশাসনিক দায়িত্বে প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় ভূমিকা রেখেছেন। প্রভাষক থেকে অধ্যাপক, আর শিক্ষকতা থেকে উপাধ্যক্ষ—বিভিন্ন দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তাঁর কর্মজীবন বিস্তৃত হয়েছে।
১৯৯৬ সালের ১০ আগস্ট বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের প্রভাষক হিসেবে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা। অল্প সময়ের জন্য সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজে দায়িত্ব পালনের পর ২০০৪ সালের আগস্টে তিনি আবার ফিরে আসেন বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজে। এরপর এই কলেজই হয়ে ওঠে তাঁর কর্মজীবনের অন্যতম প্রধান ঠিকানা।
দীর্ঘ সময়ে তিনি প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইংরেজি বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীর পাঠদানের পাশাপাশি তাঁদের উচ্চশিক্ষা, পেশাজীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উৎসাহিত করেছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রশাসনিক দায়িত্বও সামলেছেন দক্ষতার সঙ্গে। উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে কলেজের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের সমন্বয়, শৃঙ্খলা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনায় তিনি ভূমিকা রাখেন।
কর্মজীবনের একটি পর্যায়ে তিনি বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০ জুলাই ২০২৩ আবারও বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ হিসেবে ফিরে আসেন। আগামীকাল সেই প্রতিষ্ঠানেই শেষ হবে তাঁর দীর্ঘ চাকরিজীবনের আনুষ্ঠানিক অধ্যায়।
অধ্যাপক মোঃ তারিকুল ইসলাম ১৯৬৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার আনোয়ারপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৮৩ সালে এসএসসি এবং ১৯৮৫ সালে এইচএসসি পাস করার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজিতে অনার্স (১৯৮৮) ও মাস্টার্স (১৯৮৯) সম্পন্ন করেন।
ব্যক্তিজীবনেও তিনি একটি শিক্ষিত ও কর্মমুখী পরিবারের অভিভাবক। তাঁর স্ত্রী ফাতিমা নাসরিন বি.কম পাস এবং খসির হাজী সাইদ আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ছেলে নাবিদ সালেহীন বুয়েটের রাসায়ন প্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মেয়ে তানজিন হুমায়রা শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে অনার্স করছেন। ছোট মেয়ে তাসনিম জুবাইদা পঞ্চখণ্ড সরকারি হরগোবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শেষ কর্মদিবসের প্রাক্কালে নিজের দীর্ঘ কর্মজীবন নিয়ে অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন,
“প্রায় তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনের শেষ কর্মদিবসে এসে মনে হচ্ছে, জীবনের একটি দীর্ঘ ও প্রিয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। শিক্ষকতা আমার কাছে কখনো শুধু চাকরি ছিল না; এটি ছিল মানুষ গড়ার এবং একটি প্রজন্মকে জ্ঞান ও স্বপ্নের পথে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ।
বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজের সঙ্গে আমার সম্পর্ক শুধু কর্মক্ষেত্রের নয়—এই প্রতিষ্ঠান আমার জীবনের একটি বড় অংশের স্মৃতি ধারণ করে আছে। শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও কর্মচারীদের ভালোবাসা ও সহযোগিতা আমার পথচলার বড় শক্তি ছিল। অবসর জীবনে থেকেও শিক্ষা ও সমাজের কল্যাণে যতটুকু সম্ভব ভূমিকা রাখার চেষ্টা করব।”
চাকরির নিয়মে আগামীকাল শেষ হবে তাঁর কর্মজীবনের একটি অধ্যায়। কিন্তু একজন শিক্ষকের পথচলা কি সত্যিই অবসরে থেমে যায়?
যে শিক্ষার্থীরা তাঁর শ্রেণিকক্ষে বসেছে, যাঁরা তাঁর সহকর্মী হিসেবে পাশে থেকেছেন এবং যে প্রতিষ্ঠানকে তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় দিয়েছেন—তাঁদের স্মৃতিতে তাঁর কর্মজীবনের নানা অধ্যায় হয়তো থেকে যাবে আরও বহুদিন।
প্রায় ৩০ বছরের শিক্ষকতা ও প্রশাসনিক দায়িত্বের পর অধ্যাপক মোঃ তারিকুল ইসলামের এই বিদায় তাই কেবল একটি চাকরির সমাপ্তি নয়; এটি একটি দীর্ঘ শিক্ষকতা-অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি। সামনে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে জীবনের নতুন সময়—যেখানে পেশাগত দায়িত্বের ব্যস্ততার পরিবর্তে থাকবে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর আরও বিস্তৃত সুযোগ।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯