নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের স্থান নির্ধারণ নিয়ে চলমান আলোচনায় নতুন অগ্রগতি হয়েছে। চারখাই ইউনিয়নের কামারগ্রাম ও উপজেলা সদরসংলগ্ন খাসাড়িপাড়া—দুই প্রস্তাবিত স্থানই সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শন ও যাচাই-বাছাই করে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন।
রোববার (৩০ আগস্ট ২০২৬) জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ তাঁদের প্রস্তাব, অবস্থান ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরলে জেলা প্রশাসক এ আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান বলেন, “আমরা জায়গা নিয়ে বিতর্ক চাই না, আমরা মসজিদ চাই।” দীর্ঘদিন ধরে স্থান নির্ধারণ না হওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে যে বিলম্ব হচ্ছে, তা দ্রুত নিরসনের জন্য তিনি জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “চারখাই এলাকার প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। আপনাদের প্রস্তাবও পাঠানো হবে।”
তিনি জানান, প্রস্তাবিত দুইটি স্থানই সরকারি গাইডলাইন অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে পরিদর্শন করা হবে। সরেজমিন যাচাইয়ের সময় জমির পরিমাণ, মালিকানা, শ্রেণি, যোগাযোগব্যবস্থা, জনসাধারণের প্রবেশাধিকারসহ প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো বিবেচনা করা হবে। সবদিক পর্যালোচনা করে উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা এলাকার চাপ কিংবা আবেগের পরিবর্তে সরকারি গাইডলাইন ও বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্ট করেন জেলা প্রশাসক।
তিনি বলেন, “আল্লাহ যেখানে স্থান নির্দিষ্ট করে রেখেছেন, সেই স্থানেই মডেল মসজিদ বাস্তবায়ন করা হবে।”
জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ। তাঁদের মতে, সরেজমিনে দুইটি স্থান যাচাই হলে প্রকল্পের জন্য বাস্তবসম্মত ও জনস্বার্থসম্মত স্থান নির্বাচন করা সহজ হবে।
নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের কাছে জানানো হয়, উপজেলা সদরসংলগ্ন একটি উপযুক্ত স্থান হিসেবে খাসাড়িপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রায় ৬৫ শতক ভূমি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতক বাড়ি শ্রেণির ভূমি এবং মসজিদের নামে রেকর্ডীয় ১২ শতক ভূমি রয়েছে।
প্রস্তাবিত ভূমির খতিয়ান, দাগ, মালিকানা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতোমধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে বলেও জানান নাগরিক উদ্যোগের নেতৃবৃন্দ।
তাঁদের দাবি, ২০২৪ সালের আগস্টের পূর্বে প্রস্তাবিত স্থানটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছিল। সে সময় মসজিদের কিবলার দিকও নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে একটি বাটোয়ারা মামলার কারণে প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে বর্তমানে ওই মামলার বাদী মসজিদের স্বার্থে মামলা প্রত্যাহারে আগ্রহী হওয়ায় প্রস্তাবিত স্থানটি পুনরায় বিবেচনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে বলে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়।
অন্যদিকে, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ উপজেলা ভূমি অফিস থেকে চারখাই ইউনিয়নের কামারগ্রাম মৌজায় ০.৫৬০০ একর জমি মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য প্রস্তাব করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়।
নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রস্তাবিত কামারগ্রামের স্থানটি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে। ফলে উপজেলা সদরকেন্দ্রিক সরকারি মডেল মসজিদ প্রকল্পের উদ্দেশ্য, জনসাধারণের সহজ প্রবেশাধিকার এবং সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে স্থানটি পুনরায় যাচাই করা প্রয়োজন।
মডেল মসজিদের স্থান নির্ধারণে দ্রুত সিদ্ধান্তের দাবিতে নাগরিক উদ্যোগ গত ১০ আগস্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৮ আগস্ট স্মারকলিপির অনুলিপি জেলা প্রশাসকের দপ্তরেও জমা দেওয়া হয়।
এরপর গত ২৪ আগস্ট বিয়ানীবাজার-গোলাপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী-এর সঙ্গে নাগরিক উদ্যোগের প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় মডেল মসজিদের সম্ভাব্য স্থানগুলো দ্রুত যাচাই করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। সংসদ সদস্যও প্রকল্প বাস্তবায়নে সময়ের স্বল্পতার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরে দ্রুত স্থান নির্ধারণের ওপর জোর দেন।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে সদরসংলগ্ন প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে যাচাই এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া বক্তব্যে নাগরিক উদ্যোগের আহ্বায়ক মো. আতাউর রহমান বলেন, মডেল মসজিদ কোথায় হবে—এ সিদ্ধান্ত কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা নির্দিষ্ট এলাকার আবেগের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। প্রশাসন সরকারি নিয়ম ও গাইডলাইন অনুসরণ করে জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত নিলে নাগরিক সমাজ সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে।
নাগরিক উদ্যোগের পক্ষ থেকে বলা হয়, “মসজিদের স্থান শেষ পর্যন্ত মহান আল্লাহই নির্ধারণ করবেন। আমরা কেবল তাঁর বান্দা হিসেবে সঠিক জায়গাটি খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছি।”
সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে নাগরিক উদ্যোগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন—মো. আতাউর রহমান (আহ্বায়ক), জমির হোসাইন (সচিব), রায়হান আলম সাজু (সদস্য), ফাহিম শাকিল অপু (সদস্য) এবং খাসাড়িপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সেক্রেটারি ফজলুর রহমান বাবুল।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯