বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের স্থান নির্বাচনকে ঘিরে সাম্প্রতিক আলোচনা এখন আর কেবল একটি স্থাপনা কোথায় হবে—সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলাকার মর্যাদা, আত্মপরিচয়, উন্নয়ন-প্রত্যাশা, আঞ্চলিক আবেগ এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের প্রশ্ন।
বিশেষ করে চারখাই এলাকাভিত্তিক কিছু মানুষের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে—তারা মডেল মসজিদকে শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা হিসেবে দেখছেন না; বরং এটিকে চারখাইয়ের উন্নয়ন, গুরুত্ব ও সম্মানের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সম্ভাবনা হিসেবে বিবেচনা করছেন।
এই অনুভূতিকে অবজ্ঞা করার কোনো সুযোগ নেই। একটি এলাকার মানুষ নিজেদের এলাকায় বড় কোনো সরকারি প্রকল্প প্রত্যাশা করতেই পারেন। এটি নাগরিক আকাঙ্ক্ষার স্বাভাবিক বহিঃপ্রকাশ।
কিন্তু একই সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্নও সামনে রাখা জরুরি—
একটি সরকারি উপজেলা-ভিত্তিক প্রকল্পের স্থান নির্বাচন কি কোনো এলাকার আত্মসম্মানের প্রশ্নে নির্ধারিত হবে, নাকি সরকারি নীতিমালা, প্রশাসনিক বাস্তবতা, কারিগরি উপযোগিতা এবং বৃহত্তর জনস্বার্থের ভিত্তিতে?
এই প্রশ্নের উত্তর আবেগ দিয়ে নয়—যুক্তি, নীতিমালা ও বাস্তবতার আলোকে খুঁজে নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
চারখাই বিয়ানীবাজার উপজেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। এর রয়েছে নিজস্ব ইতিহাস, ঐতিহ্য, সামাজিক শক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং প্রবাসী-অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান। ফলে চারখাইয়ের মানুষ যদি মনে করেন, একটি বড় সরকারি স্থাপনা তাদের এলাকায় হলে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, যোগাযোগ বাড়বে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হবে কিংবা সরকারি সেবার পরিধি বাড়বে—তাহলে সেই প্রত্যাশাকে অযৌক্তিক বলার সুযোগ নেই। বরং এ ধরনের দাবি নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন-চেতনারই প্রকাশ।
তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন একটি সরকারি প্রকল্পকে “আমাদের সম্মান বনাম অন্য এলাকার সম্মান”—এই দ্বন্দ্বে দাঁড় করানো হয়।
কারণ একটি প্রকল্পের অবস্থান কোনো এলাকার মর্যাদার একমাত্র মাপকাঠি নয়। চারখাইয়ের সম্মান নিহিত আছে চারখাইয়ের মানুষের কর্ম, শিক্ষা, ঐতিহ্য, সামাজিক অবদান, মানবিকতা ও ভবিষ্যৎ নির্মাণের সক্ষমতায়।
মডেল মসজিদ চারখাইতে না হলে চারখাই ছোট হয়ে যাবে—এ ধারণা যেমন সঠিক নয়, তেমনি চারখাইতে হলেই পুরো উপজেলার উন্নয়ন নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
এখানে একটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। প্রকল্পটির নাম—“বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র”।
এই নাম নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়। এর মধ্যে প্রকল্পটির প্রশাসনিক পরিচয় ও পরিধি প্রতিফলিত হয়।
চারখাই বিয়ানীবাজার উপজেলার অংশ—এটি নিঃসন্দেহে সত্য। ফলে চারখাইতে নির্মাণ করা হলে সেটিও বিয়ানীবাজার উপজেলা মডেল মসজিদ হিসেবেই বিবেচিত হবে। শুধু অবস্থানের কারণে তাতে স্বয়ংক্রিয় কোনো প্রশাসনিক অসঙ্গতি তৈরি হয় না।
কিন্তু এখানেই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি আসে—
উপজেলা সদরকে বাদ দিয়ে উপজেলা-ভিত্তিক একটি সরকারি প্রকল্পের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী যুক্তি ও মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে?
এই প্রশ্নের উত্তরও কোনো পক্ষের আবেগ দিয়ে নয়; সংশ্লিষ্ট সরকারি গাইডলাইন, প্রকল্পের উদ্দেশ্য এবং বাস্তব প্রশাসনিক প্রয়োজনের আলোকে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি—উপজেলা সদর কোনো ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
উপজেলা সদর হলো প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, নাগরিক সেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং নানা সরকারি কার্যক্রম সদরকে ঘিরে পরিচালিত হয়।
তাই উপজেলা-ভিত্তিক একটি বড় সরকারি স্থাপনার ক্ষেত্রে সদর এলাকার অবস্থান বিবেচনায় আসা অস্বাভাবিক নয়। বরং সহজ যোগাযোগ, সর্বাধিক মানুষের প্রবেশাধিকার, প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে সংযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারযোগ্যতা—এসব বিবেচনায় সদর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হওয়াই স্বাভাবিক। এই বাস্তবতা থেকেই বিয়ানীবাজার উপজেলা সদরে মডেল মসজিদ নির্মাণের দাবি উঠেছে। এ দাবি চারখাইয়ের বিরুদ্ধে নয়।
যারা সদরে মডেল মসজিদ চান, তারা চারখাইকে খাটো করতে চান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যেমন যুক্তিসঙ্গত নয়; তেমনি চারখাইয়ের কেউ নিজ এলাকায় মডেল মসজিদ চান বলেই তিনি বিয়ানীবাজারের স্বার্থবিরোধী—এমন তকমাও গ্রহণযোগ্য নয়।
দাবি থাকতে পারে ভিন্ন; কিন্তু সিদ্ধান্তের মানদণ্ড হতে হবে অভিন্ন।
একটি এলাকার আত্মমর্যাদা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের স্থান নির্বাচন আত্মসম্মানের প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত হতে পারে না। কোনো স্থানের পক্ষে যুক্তি থাকলে তা উপস্থাপন করা হোক। চারখাইয়ের কোনো জমি প্রকল্পের জন্য উপযুক্ত হলে সরকারি নিয়মে যাচাই করা হোক। উপজেলা সদরের কোনো স্থান অধিকতর উপযোগী হলে সেটিও একই মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হোক।
একই মাপকাঠি—সবার জন্য।
জমির মালিকানা ও বৈধতা, প্রয়োজনীয় আয়তন, ভূমির শ্রেণি, যোগাযোগব্যবস্থা, জনসাধারণের প্রবেশাধিকার, ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সুযোগ, নিরাপত্তা, পরিবেশগত বিষয়, নির্মাণ-উপযোগিতা এবং প্রকল্পের নির্ধারিত শর্ত—সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত।
কোনো এলাকার নাম, রাজনৈতিক প্রভাব, ব্যক্তিগত সম্পর্ক কিংবা স্থানীয় আবেগ যেন সিদ্ধান্তের নিয়ামক না হয়।
সরকারি প্রকল্পের ক্ষেত্রে আত্মসম্মান সম্মানের বিষয় হতে পারে; কিন্তু সিদ্ধান্তের আইনগত ভিত্তি হতে পারে না।
চারখাইবাসীর আত্মমর্যাদার বক্তব্যকে সম্মান জানিয়ে একটি কথা স্পষ্ট করা প্রয়োজন— আত্মসম্মান কখনো অন্যের সম্মান হরণ করে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
চারখাইয়ের উন্নয়ন চাইতে গিয়ে যদি বিয়ানীবাজার সদরকে অবজ্ঞা করা হয়, সেটি যেমন অনুচিত; তেমনি সদরকে কেন্দ্র করে চারখাইয়ের উন্নয়ন-আকাঙ্ক্ষাকে তুচ্ছ করাও সমানভাবে অনুচিত।
বিয়ানীবাজারের একটি ইউনিয়ন অন্য ইউনিয়নের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়।
চারখাই, মোল্লাপুর, লাউতা, তিলপাড়া, মুড়িয়া, দুবাগ, শেওলা, আলীনগর, কুড়ারবাজার, মাথিউরা কিংবা পৌরসভা—সব মিলিয়েই বিয়ানীবাজার।
আমাদের প্রশাসনিক পরিচয় আলাদা হতে পারে; কিন্তু উপজেলা পরিচয় এক। এই অভিন্ন পরিচয়টিই যেন একটি প্রকল্পের স্থান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুর্বল না হয়ে পড়ে।
মডেল মসজিদ নিছক একটি ভবন নয়। এর সঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষা, ইসলামিক সংস্কৃতি, নৈতিক মূল্যবোধ ও সামাজিক কল্যাণের ধারণা যুক্ত।
সেই মসজিদ নির্মাণকে যদি এলাকার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতায় পরিণত করা হয়, তাহলে প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যই আড়ালে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।
মসজিদের জায়গা নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়া কখনোই কাম্য নয়। বরং সিদ্ধান্ত এমন হওয়া উচিত, যাতে নির্মাণের পর চারখাইয়ের মানুষ বলতে পারেন— “এটি আমাদের মসজিদ।”
সদরের মানুষও বলতে পারেন— “এটি আমাদের মসজিদ।”
আর পুরো উপজেলার মানুষ বলতে পারেন— “এটি বিয়ানীবাজারের মডেল মসজিদ।”
এই সর্বজনীন মালিকানাবোধই হওয়া উচিত প্রকল্পটির সামাজিক সাফল্যের অন্যতম মানদণ্ড।
মডেল মসজিদকে ঘিরে যে আবেগ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে। সামনে উপজেলা নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু রয়েছে। তাই এখনই সতর্ক হওয়া দরকার।
কোনো ব্যক্তি, প্রার্থী, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক পক্ষের অবস্থানকে মডেল মসজিদের স্থান নির্বাচনের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
আজ যে যুক্তি একটি এলাকার পক্ষে ব্যবহার করা হবে, কাল একই যুক্তিতে অন্য কোনো প্রকল্প নিয়ে অন্য এলাকা প্রশ্ন তুলতে পারে।
আজকের আবেগ আগামী দিনের প্রশাসনিক নজিরে পরিণত হতে পারে। সুতরাং সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের দায়িত্ব আরও বেশি।
এখন সবচেয়ে প্রয়োজন একটি স্বচ্ছ, লিখিত ও যাচাইযোগ্য প্রক্রিয়া।
সম্ভাব্য স্থানগুলোকে একই সরকারি মানদণ্ডে মূল্যায়ন করা হোক। প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশন এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।
কোন জায়গা কেন উপযুক্ত—তা নথিভুক্ত হোক।
কোন জায়গা কেন অনুপযুক্ত—সেটিও স্পষ্ট করা হোক।
জমির বৈধতা, প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা, যোগাযোগ, জনসাধারণের প্রবেশাধিকার এবং ভবিষ্যৎ ব্যবহারযোগ্যতার তুলনামূলক মূল্যায়ন প্রকাশ করা হলে বিতর্ক অনেকটাই কমে আসবে।
স্বচ্ছ সিদ্ধান্তই সন্দেহের সবচেয়ে কার্যকর জবাব।
চারখাইয়ের উন্নয়ন-প্রত্যাশাকে একটি মডেল মসজিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার প্রয়োজন নেই।
উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, বাজার অবকাঠামো, সড়ক, ড্রেনেজ, সরকারি সেবা, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ—এসব নিয়েও শক্তিশালী নাগরিক দাবি উঠুক।
একটি মডেল মসজিদ একটি এলাকার উন্নয়নের অংশ হতে পারে; কিন্তু একটি এলাকার ভবিষ্যৎ তার চেয়ে অনেক বড়।
চারখাইয়ের ভবিষ্যৎ কোনো একটি ভবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। এটি নির্ভর করে মানুষের ঐক্য, শিক্ষা, নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক শক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন-দাবির ধারাবাহিকতার ওপর।
এই মুহূর্তে বিয়ানীবাজারের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন—কে জিতল, চারখাই না সদর—এই হিসাব নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—
বিয়ানীবাজারের জন্য কোন সিদ্ধান্তটি সবচেয়ে ন্যায়সংগত, কার্যকর ও টেকসই?
যে সিদ্ধান্তে সরকারি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার হবে, সবচেয়ে বেশি মানুষ উপকৃত হবে, প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর থাকবে এবং ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ বৈষম্যের অভিযোগ তুলতে পারবে না—সেই সিদ্ধান্তই হওয়া উচিত গ্রহণযোগ্য।
চারখাইয়ের আত্মসম্মান অক্ষুণ্ন থাকুক। উপজেলা সদরের প্রশাসনিক বাস্তবতা স্বীকৃত হোক। প্রতিটি ইউনিয়নের নাগরিক অধিকার সমান মর্যাদায় বিবেচিত হোক।
আর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হোক সরকারি গাইডলাইন, বাস্তব উপযোগিতা, স্বচ্ছতা ও বৃহত্তর জনস্বার্থের ভিত্তিতে।
কারণ একটি ভবনের ঠিকানা পরিবর্তন করা যায়; কিন্তু একটি পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্তের কারণে সৃষ্ট আঞ্চলিক বিভাজনের ক্ষত সহজে মুছে ফেলা যায় না।
আমরা এমন কোনো সিদ্ধান্ত চাই না, যা একটি মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে আরেকটি বিভেদের ভিত্তি তৈরি করবে।
আমরা চাই—বিয়ানীবাজারের জন্য একটি মডেল মসজিদ হোক, আর সেটি স্থাপনের সিদ্ধান্তও হোক মডেল।
চারখাই তার আত্মমর্যাদা নিয়ে দাঁড়াবে। সদর তার প্রশাসনিক বাস্তবতা নিয়ে কথা বলবে। প্রতিটি ইউনিয়ন তার নাগরিক অধিকার নিয়ে মত প্রকাশ করবে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে সবাই যেন একই পরিচয়ে একত্র হতে পারে—
চারখাই বনাম সদর নয়—
মডেল মসজিদের সিদ্ধান্ত হোক বিয়ানীবাজারের স্বার্থে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯