—Π আতাউর রহমান
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে এনসিপি নেত্রী হুমায়রা নূরের মুখে সিলেটি মানুষ ও সিলেটি ভাষা সম্পর্কে যে ধরনের মন্তব্য শুনলাম, তা শুধু একজন সিলেটির অনুভূতিকে আহত করেনি—আমাকে ভাবিয়েছে আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কথাবার্তার মান নিয়েও।
কোনো রাজনৈতিক বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকা গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। একজন রাজনীতিকের বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করার অধিকার যেমন আছে, তেমনি একজন নাগরিকেরও রয়েছে সেই বক্তব্যের প্রতিবাদ করার অধিকার। কিন্তু কোনো জনগোষ্ঠীর আঞ্চলিক ভাষা, উচ্চারণ, জন্মস্থান বা সাংস্কৃতিক পরিচয়কে বিদ্রূপের উপাদান বানানো কোনোভাবেই সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হতে পারে না।
এই প্রতিবাদ তাই কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রোশ নয়। এটি একটি মানসিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ—যে মানসিকতা মনে করে কোনো অঞ্চলের ভাষা বা উচ্চারণকে ছোট করা যায়, কোনো জনগোষ্ঠীর স্বাতন্ত্র্যকে উপহাস করা যায় এবং রাজনৈতিক বক্তব্যকে আরও ধারালো করার জন্য মানুষের আঞ্চলিক পরিচয়কে আঘাত করা যায়।
না, তা করা যায় না। করা উচিতও নয়।
কারণ সিলেটি ভাষা কারও করুণা চায় না। সিলেটি পরিচয় কারও অনুমোদনের অপেক্ষায় নেই।
একটি মৌলিক বিষয় আমাদের মনে রাখা দরকার—বাংলা ভাষা কোনো একক উচ্চারণে সীমাবদ্ধ নয়।
বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাংলার যে অসংখ্য কথ্যরূপ প্রচলিত, সেগুলোই আমাদের ভাষার জীবন্ত বৈচিত্র্য। চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ কিংবা সিলেট—প্রতিটি অঞ্চলের ভাষার রয়েছে নিজস্ব ধ্বনি, শব্দ, বাক্যগঠন ও উচ্চারণের বৈশিষ্ট্য।
ভাষাবিজ্ঞানীরা জানেন, ভাষার কোনো একটি উচ্চারণকে ‘শুদ্ধ’ আর অন্যটিকে ‘বিকৃত’ বলে উড়িয়ে দেওয়া বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি নয়।
বাংলা ভাষা ও উপভাষা নিয়ে ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতো মনীষীরা যে বিশাল কাজ করে গেছেন, তার মূল শিক্ষা হলো—ভাষার বৈচিত্র্যকে জানতে হবে, সংরক্ষণ করতে হবে, সম্মান করতে হবে।
সুতরাং কেউ যদি ‘সিলেটি’ শব্দটি সিলেটিদের প্রচলিত উচ্চারণে না বলতে পারেন, সেটি তার ব্যক্তিগত ভাষাগত সীমাবদ্ধতা হতে পারে। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো আঞ্চলিক উচ্চারণকে বিকৃত করে উপহাস করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।
এখানেই আপত্তি।
একজন রাজনৈতিক নেতা বা নেত্রী যখন জনসমক্ষে কথা বলেন, তাঁর শব্দের প্রভাব ব্যক্তিগত পরিসরের চেয়ে অনেক বড়। তাঁর একটি বাক্য হাজার হাজার মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা আরও বেশি প্রয়োজন।
সিলেটি ভাষা ও সংস্কৃতির রয়েছে দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ ইতিহাস। সিলেটিদের ভাষার নিজস্ব শব্দভাণ্ডার, উচ্চারণ ও সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একই সঙ্গে সিলেটি নাগরী লিপি সিলেটের ঐতিহাসিক ভাষিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অর্থাৎ সিলেটি পরিচয় কোনো সাম্প্রতিক আবেগ নয়; এটি দীর্ঘ ইতিহাসের উত্তরাধিকার।
সিলেটের ভাষার স্বাতন্ত্র্যকে সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক পরিসরেও সম্মানের সঙ্গে দেখা হয়েছে। প্রখ্যাত সাহিত্যিক সৈয়দ মুজতবা আলীর লেখায় সিলেটি ভাষা ও সিলেটি মানুষের প্রতি যে মমত্ববোধ পাওয়া যায়, সেটি আমাদের জন্য গর্বের।
যে ভাষার উচ্চারণে একজন সাহিত্যিক নিজের শেকড়ের ‘গন্ধ’ খুঁজে পেয়েছেন, সেই ভাষাকে টেলিভিশনের পর্দায় হাস্যরসের উপাদান বানানো কোনোভাবেই সংস্কৃতিবান সমাজের লক্ষণ হতে পারে না।
সিলেটি ভাষাকে যারা কেবল একটি ‘আঞ্চলিক টান’ হিসেবে অবজ্ঞা করেন, তাদের জন্য যুক্তরাজ্যের বাস্তবতা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
লন্ডনের Tower Hamlets এলাকায় বাংলাদেশি ও বিশেষ করে সিলেটি বংশোদ্ভূত মানুষের বড় কমিউনিটি রয়েছে। সেখানে স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের ভাষাগত প্রয়োজনও বাস্তব বিষয় হয়ে উঠেছে।
Barts Health NHS Trust-এর বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্য ও কার্যক্রমে Bengali/Sylheti ভাষার ব্যবহার এবং Sylheti-speaking মানুষের প্রয়োজনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। এমনকি Tower Hamlets-এর একটি স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগে Bengali ও Sylheti ভাষাভাষী সহায়তার কথাও তাদের নিজস্ব তথ্যসূত্রে উল্লেখ রয়েছে।
অর্থাৎ লন্ডনের বহুসাংস্কৃতিক সমাজ বুঝেছে—একজন মানুষের ভাষা তার চিকিৎসা, অধিকার ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পর্কিত।
আমরা কি তা বুঝব না?
যে ভাষায় একজন রোগী নিজের কষ্টের কথা চিকিৎসককে বোঝাতে পারেন, যে ভাষায় একজন মা তার সন্তানের চিকিৎসার কথা বুঝতে পারেন, যে ভাষায় একজন বৃদ্ধ নিজের প্রয়োজন প্রকাশ করতে পারেন—সেই ভাষা কখনো হাসির বিষয় হতে পারে না।
ভাষা মানুষের অধিকার।
সিলেটিদের নিয়ে বিদ্রূপ করার আগে ব্রিটেনের মাটিতে বাংলাদেশিদের ইতিহাসের দিকে একবার তাকানো প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অভিবাসনের ইতিহাসে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সিলেটিরা ব্রিটেনে শ্রম দিয়েছেন, ব্যবসা গড়ে তুলেছেন, রেস্টুরেন্ট শিল্পে অবদান রেখেছেন, নতুন প্রজন্মকে শিক্ষিত করেছেন এবং ধীরে ধীরে ব্রিটিশ সমাজের মূলধারায় নিজেদের জায়গা করে নিয়েছেন।
আজ সেই কমিউনিটির সন্তানরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বসছেন, স্থানীয় সরকার পরিচালনা করছেন, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছেন।
রুশনারা আলী ২০১০ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে টানা পঞ্চমবার নির্বাচিত হয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের দায়িত্বও পান।
এটি শুধু রুশনারা আলীর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়। এটি ব্রিটেনে বাংলাদেশি অভিবাসীদের দীর্ঘ সংগ্রাম ও প্রজন্মান্তরের অগ্রযাত্রার একটি প্রতীক।
তাই সিলেটিদের নিয়ে বিদ্রূপ করার আগে মনে রাখা দরকার—যে কমিউনিটির মানুষ একসময় ব্রিটেনে গিয়ে অচেনা মাটিতে নিজেদের জায়গা তৈরি করেছিলেন, তাদের পরবর্তী প্রজন্ম আজ সেই দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর অংশ।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বাধীনতার পক্ষে জনমত গঠন, অর্থ সংগ্রহ, রাজনৈতিক প্রচারণা এবং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
তৎকালীন ব্রিটেনের বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলের মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।
তাঁরা হয়তো রণাঙ্গনে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেননি, কিন্তু প্রবাসের মাটিতে আরেকটি যুদ্ধ করেছিলেন—জনমত ও অর্থনৈতিক সহায়তার যুদ্ধ।
স্বাধীনতার ইতিহাস শুধু সীমান্তের ভেতরে লেখা হয়নি। লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টারসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরেও বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে মানুষের কণ্ঠ উঠেছিল।
সেই ইতিহাসের উত্তরাধিকার বহনকারী একটি জনগোষ্ঠীর ভাষাকে উপহাস করা তাই ইতিহাস সম্পর্কে অজ্ঞতারও পরিচায়ক।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে সিলেট অঞ্চলের বহু কৃতী সন্তান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনীতি, বিচার বিভাগ, শিক্ষা, প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও রাজনীতিতে সিলেটের সন্তানদের অবদান দীর্ঘদিনের।
আবদুস সামাদ আজাদ, এম সাইফুর রহমান, আবুল মাল আবদুল মুহিত, হুমায়ূন রশীদ চৌধুরী, শাহ এ এম এস কিবরিয়া, নুরুল ইসলাম নাহিদ, ড. এ কে আব্দুল মোমেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্তসহ বহু কৃতী ব্যক্তি জাতীয় পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
বিচার বিভাগেও সিলেট অঞ্চলের কৃতী সন্তানরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বিচারপতি মাহমুদুল আমিন চৌধুরী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ছিলেন; বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাও দেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
অর্থাৎ সিলেট বাংলাদেশের বাইরে নয়; বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসেরই অবিচ্ছেদ্য অংশ।
এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার করা জরুরি।
আমরা কোনো নারীকে তার নারী পরিচয়ের কারণে আক্রমণ করতে চাই না। কোনো রাজনৈতিক নেত্রীকে ‘মহিলা’ বলে হেয় করাও আমাদের প্রতিবাদের ভাষা হওয়া উচিত নয়।
আমরা তাঁর বক্তব্যের প্রতিবাদ করছি।
এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ আমরা যদি সিলেটি ভাষার মর্যাদা রক্ষার নামে অন্য একজনকে অপমান করি, তাহলে আমরা যে মূল্যবোধের কথা বলছি, নিজেরাই তার বিপরীত উদাহরণ তৈরি করব।
তাই আমাদের প্রতিবাদ হবে দৃঢ়, কিন্তু শালীন।
আমাদের বক্তব্য হবে—
আপনি রাজনীতির সমালোচনা করুন।
নীতির সমালোচনা করুন।
নেতার সমালোচনা করুন।
দলের সমালোচনা করুন।
কিন্তু কোনো অঞ্চলের ভাষা ও মানুষকে বিদ্রূপ করবেন না।
এটাই সভ্যতার সীমারেখা।
এই প্রশ্নটি শুধু সিলেটিদের নয়।
আজ যদি সিলেটি উচ্চারণকে বিদ্রূপ করা স্বাভাবিক হয়ে যায়, কাল চট্টগ্রামের ভাষা নিয়ে হাসাহাসি হবে। পরশু নোয়াখালীর ভাষা নিয়ে হবে। তারপর বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী—এক এক করে সব আঞ্চলিক ভাষাই ‘অশুদ্ধ’ কিংবা ‘হাস্যকর’ বলে চিহ্নিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।
এভাবে চলতে থাকলে একদিন আমরা এমন একটি সমাজ তৈরি করব যেখানে মানুষ নিজের আঞ্চলিক পরিচয় প্রকাশ করতেও সংকোচ বোধ করবে।
এটি কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়।
বরং আমাদের শেখাতে হবে—
আঞ্চলিকতা হীনমন্যতা নয়।
আঞ্চলিক ভাষা অশিক্ষার পরিচয় নয়।
উচ্চারণের পার্থক্য অযোগ্যতার প্রমাণ নয়।
নিজের শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা সংকীর্ণতা নয়।
বাংলাদেশ আজ রাজনৈতিকভাবে নানা বিভাজনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মতের পার্থক্য আছে, আদর্শের পার্থক্য আছে, রাজনৈতিক সংঘাত আছে।
এই বাস্তবতায় রাজনীতিবিদদের ভাষাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কারণ রাজনীতির ভাষা যদি বিদ্বেষ ছড়ায়, সমাজে বিদ্বেষ বাড়ে। রাজনীতির ভাষা যদি সম্মান শেখায়, সমাজও ধীরে ধীরে সম্মান করতে শেখে।
তাই হুমায়রা নূরসহ দেশের সব রাজনৈতিক নেতা-কর্মীর প্রতি আমাদের আহ্বান—
রাজনীতিকে শক্তিশালী করুন যুক্তি দিয়ে, বিদ্রূপ দিয়ে নয়।
প্রতিপক্ষকে পরাজিত করুন বক্তব্য দিয়ে, পরিচয়কে আঘাত করে নয়।
মানুষকে জয় করুন সম্মান দিয়ে, অপমান করে নয়।
সিলেটিদেরও একই আহ্বান—প্রতিবাদ করুন, কিন্তু সংযম হারাবেন না। কারণ আমাদের ভাষার সৌন্দর্য শুধু শব্দে নয়, আচরণেও প্রকাশ পেতে হবে।
আমার জন্মস্থান সিলেট।
সিলেটের মাটি, মানুষ, ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে আমার আত্মপরিচয় জড়িয়ে আছে। তাই সিলেটি ভাষা ও সিলেটিদের নিয়ে অবমাননাকর বক্তব্য শুনলে প্রতিবাদ করা আমার নৈতিক দায়িত্ব বলেই মনে করি।
কিন্তু এই প্রতিবাদ কোনো ব্যক্তির প্রতি ঘৃণা নয়।
এটি একটি বার্তা—
সিলেটি ভাষাকে অপমান করা যাবে না।
কোনো আঞ্চলিক ভাষাকে হেয় করা যাবে না।
কোনো জনগোষ্ঠীর পরিচয়কে রাজনৈতিক বিদ্রূপের উপকরণ বানানো যাবে না।
সিলেটিদের শেকড় গভীর। তাদের ইতিহাস দীর্ঘ। তাদের প্রবাসযাত্রা সংগ্রামের। মুক্তিযুদ্ধে তাদের অবদান স্মরণীয়। বিশ্বজুড়ে তাদের নতুন প্রজন্ম নিজেদের যোগ্যতায় প্রতিষ্ঠিত।
তাই সিলেটি উচ্চারণে কেউ হাসলে সিলেটিদের লজ্জিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।
বরং যারা ভাষার বৈচিত্র্য বুঝতে পারেন না, তাদেরই নতুন করে শেখার প্রয়োজন আছে।
বাংলাদেশ এক ভাষার দেশ নয়—বহু উচ্চারণ, বহু সংস্কৃতি, বহু আঞ্চলিক পরিচয়ের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি দেশ।
সেই বাংলাদেশে সিলেটিদের জায়গা যেমন আছে, তেমনি সিলেটি ভাষারও মর্যাদা আছে।
আমরা চাই না, কোনো রাজনৈতিক মঞ্চে আবার কোনো অঞ্চলের ভাষা বা মানুষকে বিদ্রূপ করা হোক।
আমরা চাই—
ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা থাকুক।
শেকড়ের প্রতি ভালোবাসা থাকুক।
রাজনীতিতে শালীনতা ফিরুক।
মানুষের মধ্যে শুভবোধ জাগুক।
আর ভিন্নতার প্রতি সম্মানই হোক আমাদের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিচয়।
কারণ শেষ পর্যন্ত—
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯