পঞ্চখণ্ড আই অনলাইন ডেস্ক :
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বিয়ানীবাজারের এক সিএনজি চালককে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যেতে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগটি সত্য হলে ঘটনাটি শুধু একজন যাত্রীর অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্ন নয়, বরং বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ২২ আগস্ট তাঁর ফেসবুক টাইমলাইনে বিষয়টি তুলে ধরে দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর পোস্টে বলা হয়, বিয়ানীবাজারের ওই যুবকের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরব যেতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তাকে এমন সিল দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে তিনি আর বিদেশ যেতে না পারেন—এমন অভিযোগও তাঁর কাছে এসেছে।
এমপি তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ওই ব্যক্তি একজন সিএনজি চালক এবং আর্থিকভাবে স্বচ্ছল না হওয়ায় একজন আমেরিকাপ্রবাসী তাকে ওমরাহ পালনে সহায়তা করেছিলেন। দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের উদ্দেশ্যে তিনি যাত্রা করলেও বিমানবন্দরে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন বলে অভিযোগ।
তবে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কোন আইনি বা প্রশাসনিক কারণে তাকে বিদেশযাত্রা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল? তাঁর কাগজপত্রে কোনো ঘাটতি ছিল কি না? ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের লিখিত কারণ কী? এবং অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে ভবিষ্যতে বিদেশ যেতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছিল কি না?
এগুলোই এখন তদন্তের মূল বিষয় হওয়া প্রয়োজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টকার্ডে লেখা হয়েছে—“তুমি সিএনজি চালক, ওমরাহ তোমার জন্য না”—এমন বক্তব্যই নাকি বিমানবন্দরে তাকে শুনতে হয়েছে। তবে এই বক্তব্য সত্যিই কোনো সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলেছেন কি না, সেটিও স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত কোনো বক্তব্যকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করার আগে এর সত্যতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী যাত্রীর হয়রানি, আর্থিক ক্ষতি ও মানসিক ক্ষতির বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একজন শ্রমজীবী মানুষ কি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ার কারণে ওমরাহ পালনের অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন? অবশ্যই কোনো যাত্রীর বিদেশযাত্রায় আইনগত বাধা থাকলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তা প্রয়োগ করতে পারে। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত হতে হবে আইন, নীতিমালা ও প্রমাণের ভিত্তিতে—ব্যক্তির পেশা, আর্থিক অবস্থান বা সামাজিক পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
এ ঘটনায় আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগটি যদি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু একজন সিএনজি চালকের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিমানবন্দরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বারে কোনো কর্মকর্তা যদি ক্ষমতার অপব্যবহার, অশোভন আচরণ বা বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে থাকেন, তাহলে তার দায় ব্যক্তিগত পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকে না; এতে সংশ্লিষ্ট বিভাগ এবং দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বিষয়টি নিয়ে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক প্রশাসনিক ব্যবস্থা এবং ভুক্তভোগীর ন্যায্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। একই সঙ্গে অভিযোগ মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণিত হলে সেটিও জনসমক্ষে স্পষ্ট করা প্রয়োজন।
এখন প্রত্যাশা একটাই—অভিযোগ নয়, তদন্তই নির্ধারণ করুক সত্যটা কী। একজন শ্রমজীবী নাগরিকের ওমরাহযাত্রার স্বপ্ন যদি অন্যায়ভাবে বাধাগ্রস্ত হয়ে থাকে, তবে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক; আর যদি আইনগত কারণেই তাকে যেতে দেওয়া না হয়ে থাকে, তাহলে সেই কারণও জনসমক্ষে পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করা হোক।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯