বিয়ানীবাজার, ২১ জুলাই, ২০২৬ | বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাব :
"থানায় হয়রানি আমার আমলে হতে দেব না। আইন সবার জন্য সমান। কোনো নিরীহ মানুষ হয়রানির শিকার হবেন না, আবার কোনো অপরাধীও ছাড় পাবে না। জনগণকে সঙ্গে নিয়েই একটি জনবান্ধব, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক থানা গড়ে তুলতে চাই।"
বিয়ানীবাজার থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দৃঢ় প্রত্যয়ের সঙ্গে এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, "পুলিশ ও জনগণ যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে, তাহলে অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। বিয়ানীবাজারবাসীর আস্থা ও ভালোবাসাই হবে আমার সবচেয়ে বড় শক্তি।"
সোমবার (২১ জুলাই) বিয়ানীবাজার থানায় অনুষ্ঠিত "জনআস্থা, জননিরাপত্তা ও জনবান্ধব পুলিশিং : বিয়ানীবাজারবাসীর প্রত্যাশা" শীর্ষক সাংবাদিকদের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জনসেবা, মাদক ও সাইবার অপরাধ দমন, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এবং কমিউনিটি পুলিশিংসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।
গত ৩ জুলাই রাতে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ানীবাজার থানায় যোগদান করেন। শরীয়তপুরের কৃতী এই পুলিশ কর্মকর্তা কর্মজীবনের শুরুতে মৌলভীবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) দায়িত্ব পালন করেন। পরে কমলগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে তিনি বিয়ানীবাজার থানার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রথম ১০০ দিনের লক্ষ্য : জনআস্থা অর্জন
ওসি আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, তাঁর প্রথম ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হবে জনগণের আস্থা অর্জন। এ সময়ের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন, থানাকে আরও জনবান্ধব করা, কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স'
মাদক, চুরি, ছিনতাই, কিশোর অপরাধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, "অপরাধী কোনো পরিচয়ের নয়। অপরাধই তার একমাত্র পরিচয়। অপরাধ দমনে দৃশ্যমান ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।"
'সেবাই পুলিশের ধর্ম'
থানাকে জনবান্ধব করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "সেবাই পুলিশের ধর্ম। একজন দিনমজুর, একজন প্রবাসীর পরিবারের সদস্য কিংবা একজন অসহায় নারী—সবাই সমান মর্যাদায় থানার সেবা পাবেন। থানায় অভিযোগ করতে কোনো টাকা লাগে না এবং লাগবেও না। কোনো ধরনের হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেলে আমাকে সরাসরি জানাবেন।"
যানজট ও সড়ক নিরাপত্তায় সমন্বিত উদ্যোগ
বিয়ানীবাজার পৌর শহরের যানজট, অবৈধ পার্কিং, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মোটরসাইকেল চালানো এবং বেপরোয়া যান চলাচল রোধে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি। প্রয়োজনে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করা হবে বলে জানান।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
নারী ও শিশু নির্যাতন, ইভটিজিং, সাইবার হয়রানি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন ওসি। তিনি বলেন, "অপরাধ প্রতিরোধে জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।"
সাইবার প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান
সাইবার অপরাধ ও আর্থিক প্রতারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "মোবাইল ব্যাংকিং কিংবা ব্যাংক হিসাবের পাসওয়ার্ড কখনোই অন্য কাউকে দেওয়া যাবে না। ফোনে বা অনলাইনে কেউ ব্যক্তিগত তথ্য চাইলে তা যাচাই না করে শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজেদের সচেতনতাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।"
আইনের প্রয়োগে থাকবে নিরপেক্ষতা
আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি বলেন, "আমাকে নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রভাবশালী মহলের জন্য আলাদা কোনো নীতি থাকবে না। আইন সবার জন্য সমান।"
জনসম্পৃক্ত পুলিশিং হবে অগ্রাধিকার
কমিউনিটি পুলিশিংকে আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, "পুলিশ একা সমাজ পরিবর্তন করতে পারে না। শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, জনপ্রতিনিধি, ইমাম, সামাজিক সংগঠক ও তরুণদের সম্পৃক্ত করে জনসম্পৃক্ত পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা হবে।"
"আমি চাই মানুষ আমার সেবার কথা স্মরণ করুক"
দায়িত্বের মেয়াদ শেষে বিয়ানীবাজারের মানুষ কোন কাজের জন্য তাঁকে স্মরণ করবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি আবু জাফর মাহফুজুল কবির বলেন, "আমি চাই মানুষ আমার সেবার কথা স্মরণ করুক। একজন পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের চেয়ে বড় কোনো প্রাপ্তি নেই।"
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, "আমি সেই অঙ্গীকার নিয়েই বিয়ানীবাজারে এসেছি যে, এই থানা হবে মানুষের আস্থার জায়গা। জনগণের সহযোগিতা পেলে বিয়ানীবাজার থানাকে একটি আধুনিক, সেবামূলক ও জনবান্ধব থানায় পরিণত করা অবশ্যই সম্ভব।"
সবশেষে তিনি বিয়ানীবাজারবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "গুজবে কান দেবেন না, আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। অন্যায় ও অপরাধের বিরুদ্ধে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করুন। জনগণ ও পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই একটি নিরাপদ, মানবিক ও অপরাধমুক্ত বিয়ানীবাজার গড়ে তোলা সম্ভব।"
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯