নিজস্ব প্রতিবেদক | পঞ্চখণ্ড আই:
পঞ্চখণ্ডের অন্যতম প্রাচীন বাসুদেব মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহের মুকুটচূড়া হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সমাজে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া ছড়িয়ে পড়লেও মন্দির পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে, হারিয়ে যাওয়া মুকুটচূড়াটি স্বর্ণের নয়, রৌপ্যের তৈরি।
মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বিয়ানীবাজার উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক দীপ্ত কুমার দীপু তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দাবি করেন, কয়েকদিন আগে বাসুদেবের বিগ্রহ থেকে একটি সোনার মুকুট চুরি হয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়নি। একই সঙ্গে তিনি অতীতের একটি ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে মন্দির পরিচালনা কমিটির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
এ বিষয়ে পঞ্চখণ্ড আই-এর পক্ষ থেকে বাসুদেব মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অমিতাভ পাল চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মুকুটচূড়া হারানোর ঘটনাটি সত্য, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তবতার কিছু অমিল রয়েছে।
তিনি বলেন, "হারিয়ে যাওয়া মুকুটচূড়াটি স্বর্ণের নয়, রৌপ্যের তৈরি। ঘটনা জানার পর গত শনিবার (৪ জুলাই) আমি মন্দিরে গিয়ে বিষয়টি সরেজমিনে খোঁজখবর নিয়েছি। এখন পর্যন্ত সেটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত সোমবার পরিচালনা কমিটির বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে এবং অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।"
অমিতাভ পাল চৌধুরী আরও জানান, মন্দির দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা একটি পরিবারের দুই ভাই পালাক্রমে প্রতি ১৫ দিন অন্তর পাহারার দায়িত্ব পালন করেন। মন্দিরের চাবিও তাদের জিম্মায় থাকে। কীভাবে মুকুটচূড়াটি হারিয়ে গেল, সে বিষয়ে অনুসন্ধান চলছে।
এদিকে দীপ্ত কুমার দীপুর ফেসবুক স্ট্যাটাসে আরও অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের শেষ দিকে মন্দিরের শালগ্রাম শিলা হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাও যথাযথভাবে প্রকাশ করা হয়নি এবং সে সময় দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে মন্দির পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ধর্মীয় ও ঐতিহ্যবাহী এই উপাসনালয়ে মূল্যবান ধর্মীয় সামগ্রী হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয় সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
(বিঃদ্রঃ এই প্রতিবেদনে উল্লেখিত পূর্ববর্তী ঘটনাসহ কয়েকটি অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।)
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯