-Π আতাউর রহমান
ফুটবল কেবল গোলের খেলা নয়; এটি বিশ্বাস, ধৈর্য, সাহস আর শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার এক অনন্য শিল্প। যে দলটি এই দর্শনকে বছরের পর বছর নিজেদের পরিচয়ে রূপ দিয়েছে, তার নাম আর্জেন্টিনা।
আজকের ম্যাচটি ছিল তারই আরেকটি জীবন্ত প্রমাণ। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়া, অধিনায়ক লিওনেল মেসির পেনাল্টি মিস, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের একের পর এক অবিশ্বাস্য সেভ—সব মিলিয়ে মনে হচ্ছিল, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপ অভিযান বুঝি এখানেই থেমে যাবে। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল হজম করার পর সেই শঙ্কা আরও ঘনীভূত হয়। স্কোরলাইন যখন ২-০, তখন অনেকেই হয়তো আর্জেন্টিনার বিদায়ের হিসাব কষতে শুরু করেছিলেন।
কিন্তু চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো—তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করে না। সময় যত ফুরিয়ে আসে, তাদের বিশ্বাস তত দৃঢ় হয়। কারণ তারা জানে, একটি ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে শেষ বাঁশি, মাঝপথের হতাশা নয়।
শেষ ১১ মিনিটে যেন বদলে যায় পুরো গল্প। প্রথমে ক্রিস্তিয়ান রোমেরোর হেড, তারপর লিওনেল মেসির জাদুকরী গোল, আর যোগ করা সময়ে এনসো ফার্নান্দেসের বিজয়সূচক আঘাত—মাত্র কয়েক মিনিটেই পরাজয়ের অন্ধকার ছিন্ন করে আর্জেন্টিনা লিখে ফেলে বিশ্বকাপের আরেকটি অবিস্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের কাব্য।
এই জয় শুধু একটি নকআউট ম্যাচ জেতার গল্প নয়। এটি বিশ্বাস হারিয়ে না ফেলার শিক্ষা। এটি প্রতিকূলতার সামনে মাথা নত না করার বার্তা। এটি মনে করিয়ে দেয়, যাদের মানসিক শক্তি সবচেয়ে বড় অস্ত্র, তাদের বিপক্ষে সময়ের আগেই কখনো রায় দেওয়া যায় না।
আজকের ম্যাচে মেসি শুধু গোল করেননি; তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন, একজন মহান নেতা বিপদের মুহূর্তে নিজের উপস্থিতি দিয়েই পুরো দলের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে পারেন। আর আর্জেন্টিনা দেখিয়েছে, চ্যাম্পিয়ন হওয়া যত কঠিন, চ্যাম্পিয়নের মানসিকতা ধরে রাখা তার চেয়েও কঠিন।
তাই আজকের রাতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা একটাই—স্কোরবোর্ডে পিছিয়ে পড়া মানেই পরাজয় নয়। যারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ধরে রাখে, লড়াই চালিয়ে যায়, তারাই ইতিহাস লেখে।
হারে না বলেই যারা জিতে—তার নাম আর্জেন্টিনা।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯