বিয়ানীবাজার উপজেলার একাধিক সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ম্যানেজিং কমিটি (এসএমসি) গঠনকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, প্রভাব খাটানো এবং বিধিমালা উপেক্ষার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন এলাকার অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে নোটিশ প্রদান, উন্মুক্ত সভা আয়োজন এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত না করেই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত রবিবার কালাইউরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসএমসি সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা উত্তপ্ত হয়ে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে এক ইউপি সদস্যকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনার পর এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
আলীনগর ইউনিয়নের কাদিমলিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসএমসির বিদ্যোৎসাহী সদস্য হাবিব আহমদ দত্ত চৌধুরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি পারিবারিক প্রভাব, জ্যেষ্ঠতার নীতি লঙ্ঘন এবং বিধিবহির্ভূতভাবে সহ-সভাপতি মনোনয়নের বিষয় উল্লেখ করেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযোগটি তদন্তাধীন বলে জানা গেছে।
একাধিক অভিভাবক ও স্থানীয় ব্যক্তির অভিযোগ, কিছু প্রতিষ্ঠানে কমিটি গঠনের আগে যথাযথ নোটিশ টানানো হয়নি এবং সাধারণ অভিভাবকদের মতামত গ্রহণের সুযোগ সীমিত ছিল। তাদের প্রশ্ন, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি যদি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ায় গঠিত না হয়, তবে জবাবদিহি নিশ্চিত হবে কীভাবে?
সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের মূল কারণ ক্ষমতার দ্বন্দ্বের পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতার ঘাটতি। তারা মনে করেন, অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচন, সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ, নোটিশ প্রকাশ এবং অনুমোদনের ধাপগুলো প্রকাশ্য করা হলে বিতর্ক অনেকটাই কমতে পারে।
সুজন বিয়ানীবাজারের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমান উদ্দিন বলেন, ‘সব পেশাতেই কিছু অসাধু ব্যক্তি থাকতে পারে। অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
পূর্ব মুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালেদ আহমদ বলেন, ‘শিক্ষকদের দলাদলির ঊর্ধ্বে থেকে নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা উচিত। অল্প কয়েকজনের কারণে অনেক সময় অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নৃপেশ চন্দ্র নাথ জানান, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৌখিক অভিযোগকারীদের লিখিত আবেদন দিতে বলা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধিমালা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো প্রতিষ্ঠান খেয়ালখুশিমতো কমিটি গঠন করলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না।’
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্ভূত বিতর্ক দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে নিষ্পত্তি না হলে শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি জনআস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড, বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯