বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা। বিয়ানীবাজার থানার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার বলেন, "সমাজ যেরকম, আমরাও সেরকম। সমাজের সামগ্রিক সহযোগিতা ছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন সম্ভব নয়।" সাম্প্রতিক বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "কোনো হত্যাকাণ্ডকে ক্লুলেস বলা মানে এই নয় যে, তদন্তে অগ্রগতি নেই; বরং প্রকাশ্যে দৃশ্যমান প্রমাণের অভাব রয়েছে। নিরাশ হওয়ার কিছু নেই, প্রতিটি মামলার তদন্ত সঠিকভাবে অগ্রসর হচ্ছে।"
তিনি আরও বলেন, "নিরাপরাধ কাউকে ভয় দেখানো যাবে না। থানার দালাল কারা, সেটিও পর্যবেক্ষণ করা হবে। মনে রাখবেন, কোনো অপরাধীকে ধর্মীয় রঙ দেবেন না। অপরাধী সর্বদাই অপরাধী।" তিনি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, পুলিশি পেট্রোলিং জোরদার এবং অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি জনদাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহ আলম এবং বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ওমর ফারুক। তিনি বলেন, "আমরা একটি সুন্দর বিয়ানীবাজার চাই। এ জন্য সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।"
সভা সঞ্চালনা করেন বিয়ানীবাজার থানার তদন্ত কর্মকর্তা ছবেদ আলী। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন এখলাছুর রহমান এবং গীতা পাঠ করেন অমলেন্দু দে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। জাতীয় ইমাম সমিতির উপজেলা সভাপতি মাওলানা নিজাম উদ্দিন, বাশিস উপজেলা শাখার সেক্রেটারি অসীম কান্তি তালুকদার, মুড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ, এনসিপি নেতা সালাহ উদ্দিন রায়হান সাজু, জমিয়তের নেতা মুফতি আব্দুল করিম হাক্কানী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল কাদির এবং বিয়ানীবাজার প্রেসক্লাবের সাংবাদিক আহমেদ ফয়সাল প্রমুখ।
মুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ আহমদ বলেন, "'ব্রেভ' নামের এক ধরনের নেশাজাতীয় দ্রব্য প্রসাধনীর দোকানে বিক্রি হচ্ছে, যা কিশোর গ্যাংয়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্ব পালনে অবহেলা রয়েছে। এছাড়া মাদকের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সাংঘর্ষিক।"
এনসিপি নেতা সালাহ উদ্দিন রায়হান সাজু সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলোকে 'ক্লুলেস' আখ্যা দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দের মধ্যে পৌর আমীর মো. জমির হোসাইন মতবিনিময় সভার ইতিবাচক ফল প্রত্যাশা করে বলেন, "এই আলোচনা যেন বাস্তব পরিবর্তনের আলোর মুখ দেখে।" উপজেলা শাখার সেক্রেটারি আবুল কাশেম এবং নায়েবে আমীর আবুল খায়ের মাদক নির্মূল, অবৈধ দখলমুক্ত সড়ক এবং যানজট নিরসনের দাবি জানান।
বিএনপি নেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি আব্দুল বাসিত, উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি ছরওয়ার হোসেন, সিলেট জেলা বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহমদ রেজা এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি নজমুল হোসেন পুতুল প্রশাসনের প্রতি সহযোগিতামূলক বক্তব্য রাখেন।
সিলেট জেলা বিএনপি নেতা সিদ্দিক আহমদ বলেন, "বিয়ানীবাজারে প্রায় ৪০টি ব্যাংকের শাখা রয়েছে। প্রবাসী অধ্যুষিত এই অঞ্চলের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনিক কার্যক্রমে বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন।"
অপরদিকে পৌর বিএনপি সভাপতি মিজানুর রহমান রুমেল বলেন, "মাদকের ভয়াবহ বিস্তার এবং ক্রমবর্ধমান যানজট নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি।"
পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বিয়ানীবাজারের মানুষ প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার চায়; অনুমান নয়, সত্যনির্ভর অনুসন্ধান চায়।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা মাদক নির্মূল, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, পুলিশি সেবার মানোন্নয়ন এবং অপরাধ তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ বিয়ানীবাজার গঠনের পথ প্রশস্ত করবে বলে মত দেন উপস্থিত বক্তারা।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড,
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯