বিয়ানীবাজার উপজেলার মাথিউরা ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থী তাওহীদা জান্নাত (১৬)-এর মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে নতুন মোড় সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে থানায় লিখিত এজাহার দায়েরের একদিন পর তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার নিহতের মা মোছা. সুলতানা বেগম বাদী হয়ে উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক এনামুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিয়ানীবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এনামুল ইসলামের সঙ্গে তাওহীদার প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং গত ২৯ মে ভোরে তিনি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাওহীদাকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে যোগাযোগ করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি অস্বীকৃতি জানান এবং বিভিন্নভাবে মানসিক চাপ প্রয়োগ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে বুধবার (৩ জুন) নিহতের মা ও বাবা ইকবাল হোসেন থানায় গিয়ে ওই লিখিত অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন।
এ বিষয়ে নিহতের বাবা ইকবাল হোসেন বলেন, “ঘটনার দিন থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল। পরে বিষয়টি পুরোপুরি না বুঝে আমার স্ত্রী আরেকটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে জানতে পারি একই ঘটনার বিষয়ে দুটি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই আমরা অভিযোগটি প্রত্যাহারের আবেদন করি। পুলিশ প্রশাসন আমাদের আশ্বস্ত করেছে যে, তারা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করবে।”
বিয়ানীবাজার থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ছবেদ আলী জানান, “ঘটনার পর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছিল। এর মধ্যে নিহতের মা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে তিনি অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে তা গ্রহণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৯ মে) রাতে তাওহীদা জান্নাত নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। তিনি বিয়ানীবাজারের মাথিউরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে কোনো বিচারিক সিদ্ধান্ত বা তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হয়নি। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
তদন্তাধীন এই ঘটনায় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, আলামত, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড,
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯