আতাউর রহমান, পঞ্চখণ্ড আই প্রধান প্রতিবেদক:
জাতীয় দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, কবি ও বহুমাত্রিক লেখক মুস্তাফিজ শফি। ১ ফেব্রুয়ারি, রোববার রাজধানীর বাংলামটরের কার্যালয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নেন।
দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে সাফল্য এবং সংবাদপত্র ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার জন্য তিনি গণমাধ্যম অঙ্গনে সুপরিচিত। এর আগে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন। পাশাপাশি দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদক, দৈনিক সমকাল-এর নির্বাহী সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এবং দৈনিক আমার দেশ-এর বিশেষ প্রতিনিধি ও যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
জন্ম ও শিক্ষাজীবন
মুস্তাফিজ শফির জন্ম ১৯৭১ সালের ২০ জানুয়ারি, সিলেট জেলার তৎকালীন বিয়ানীবাজার থানার জলঢুপ (আস্টসাঙ্গন) গ্রামে। তিনি মরহুম সফিক উদ্দিন আহমেদ ও মরহুমা জয়গুন নেসার ছয় সন্তানের মধ্যে পঞ্চম।
শিক্ষাজীবনে তিনি ১৯৮৭ সালে জলঢুপ দ্বিপাক্ষিক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি, ১৯৮৯ সালে বিয়ানীবাজার সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি, ১৯৯১ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং ২০০০ সালে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন।
সাংবাদিকতা ও পেশাগত পথচলা
১৯৮৮ সালে সাপ্তাহিক সিলেট সংবাদ ও লন্ডনের সাপ্তাহিক সুরমা-য় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তার সাংবাদিকতার শুরু। জাতীয় পর্যায়ে তিনি কাজ শুরু করেন ১৯৯৪ সালে। এরপর ধারাবাহিকভাবে আজকের কাগজ, দৈনিক মানবজমিন, প্রথম আলো, আমার দেশ, কালের কণ্ঠ ও সমকাল-এ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।
প্রথম আলো-তে তিনি জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক ও উপ-প্রধান প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। পরে আমার দেশ-এ বিশেষ প্রতিনিধি থেকে যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক, সমকাল-এ বার্তা সম্পাদক ও পরে নির্বাহী সম্পাদক, কালের কণ্ঠ-এ নির্বাহী সম্পাদক ও পরিকল্পনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দীর্ঘ সময় সমকাল-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ছিলেন।
২০২২ সালের ১ এপ্রিল তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকায় সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন এবং ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সে দায়িত্ব পালন করেন।
অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা ও স্বীকৃতি
রিপোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে তিনি অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। এই ধারায় তিনি ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল, লায়ন্স ক্লাব ও ইউনেস্কো ক্লাব মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডসহ জাতীয় পর্যায়ের বেশ কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার পেয়েছেন। তার একাধিক পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিবেদন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে পাঠ্য হিসেবে পড়ানো হয়। অতিথি শিক্ষক হিসেবেও তিনি পাঠদান করে থাকেন।
সাহিত্যকর্ম
শৈশব থেকেই কবিতার প্রতি ঝোঁক ছিল মুস্তাফিজ শফির। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি কবিতা, গল্প, উপন্যাস, গবেষণা ও শিশু সাহিত্যেও সক্রিয়। তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে উল্লেখযোগ্য— কবিতার বই: পড় তোমার প্রেমিকার নামে, মধ্যবিত্ত কবিতাগুচ্ছ, দহনের রাত; সাংবাদিকতা বিষয়ক: বিলেতের বাঙাল, নির্বাচিত অনুসন্ধান; জীবনী ও রাজনীতি: চে; শিশুসাহিত্য: ভূতের সঙ্গে পদ্য; গল্প: মাথাকাটা ভূতবাহিনী; উপন্যাস: ভূতকল্যাণ সমিতি; এবং তার সম্পাদনায় নারী মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মকাহিনি একাত্তরের বিজয়িনী।
ভূতকল্যাণ সমিতি গ্রন্থের জন্য তিনি সিটি ব্যাংক আনন্দ-আলো সাহিত্য পুরস্কার এবং একাত্তরের বিজয়িনী গ্রন্থের জন্য বেসরকারি মোবাইল অপারেটর রবির সম্মাননা অর্জন করেন।
ব্যক্তিজীবন
১৯৯৭ সালের ২৯ মে তিনি নূরজাহান আক্তারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই সন্তান—রূপকথা তানসিয়া ও ঋদ্ধ তানজিম। তার প্রিয় রং সবুজ ও নীল, প্রিয় ফুল কদম ও দোলনচাঁপা। খাবারের তালিকায় মাছ-ভাত-ভর্তা পছন্দের শীর্ষে। অবসর সময়ে তিনি বই পড়া, মৌলিক লেখালেখি এবং গান শোনা উপভোগ করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রতিক্রিয়া
নতুন দায়িত্ব নিয়ে মুস্তাফিজ শফি বলেন, “দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে আমি পেশাদারিত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এসেছি। সাংবাদিকতা একটি দায়িত্বশীল পেশা। ‘দায়িত্বশীলদের দৈনিক’ স্লোগান নিয়ে এগিয়ে চলা দেশ রূপান্তর-এর সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি সম্মানিত বোধ করছি। সততা, পেশাদারিত্ব ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও পাঠকবান্ধব সাংবাদিকতার ধারাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”
উল্লেখ্য, রূপায়ণ গ্রুপের অর্থায়নে ২০১৮ সালে ‘দায়িত্বশীলদের দৈনিক’ স্লোগান নিয়ে দেশ রূপান্তর যাত্রা শুরু করে। প্রিন্ট সংস্করণের পাশাপাশি পত্রিকাটির অনলাইন ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মও পাঠকমহলে ব্যাপক সাড়া পেয়েছে, বিশেষ করে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের কারণে।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড,
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯