পঞ্চখণ্ড আই ডেস্ক | বিয়ানীবাজার:
বিয়ানীবাজার পৌরশহরে অবস্থিত বিয়ানীবাজার মা ও শিশু হাসপাতালে আবারও এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। চিকিৎসক ও মিডওয়াইফের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনরা।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে নবজাতকের মৃত্যুর পরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়দের বিক্ষোভে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে নিহত নবজাতকের স্বজন ও স্থানীয়রা শিশুমৃত্যুর সঠিক কারণ অনুসন্ধান, দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিয়ানীবাজার মা ও শিশু হাসপাতালে একের পর এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় একই ধরনের দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে। এতে জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং শনিবার দুপুরে একই হাসপাতালে আরেক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতকটি ছিল গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাদেপাশা ইউনিয়নের আমকোনা গ্রামের সৌদি প্রবাসী আব্দুল হামিদের তৃতীয় সন্তান।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন হাসপাতালে ভর্তির আগে সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মা ও শিশুর অবস্থা স্বাভাবিক বলে নিশ্চিত করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। দুপুর আনুমানিক ২টা পর্যন্ত সাধারণ প্রসব কার্যক্রম চললেও কোনো অভিজ্ঞ চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। অভিযোগ রয়েছে, অদক্ষ নার্স দিয়ে জোরপূর্বক ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়।
এক পর্যায়ে রোগীর পেটে চাপ দিলে নবজাতকের মাথা অর্ধেক বের হয়ে আসে এবং দীর্ঘ সময় ধরে মাথা টানাটানির কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়। পরে মেডিকেল অফিসার ও আবাসিক সার্জন এসে মৃত নবজাতকের জন্ম নিশ্চিত করেন।
এদিকে ধারাবাহিক নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি নিশ্চিত না করলে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনা রোধ করা সম্ভব হবে না।
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: আতাউর রহমান
আইন-উপদেষ্টা: ব্যারিস্টার আবুল কালাম চৌধুরী
বানিজ্যিক কার্যালয়: সমবায় মার্কেট, কলেজ রোড,
বিয়ানীবাজার পৌরসভা, সিলেট থেকে প্রকাশক কর্তৃক প্রকাশিত।
ই-মেইল: 𝐩𝐚𝐧𝐜𝐡𝐚𝐤𝐡𝐚𝐧𝐝𝐚𝐞𝐲𝐞@𝐠𝐦𝐚𝐢𝐥.𝐜𝐨𝐦 মোবাইল নম্বর: ০১৭৯২৫৯৮১২৯