1. news@panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই : পঞ্চখণ্ড আই
  2. info@www.panchakhandaeye.com : পঞ্চখণ্ড আই :
রবিবার, ১৯ মে ২০২৪, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ :
লন্ডনে বিয়ানীবাজার উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী রুনুর সমর্থনে সভা এসএসসি ফলাফল পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন সোমবার থেকে বিয়ানীবাজারে পাশের হার এসএসসিতে ৬৭.৯০, দাখিলে ৬৯.১৬ ও ভোকেশনালে ৪৭.২৭ শতাংশ প্রধানমন্ত্রীর কাছে এসএসসি’র ফল হস্তান্তর | দুপুরে সাড়ে ১২ টায় প্রেস ব্রিফিং নতুন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর প্রথম বাজেট ৬ জুন মাধ্যমিক শিক্ষাস্তর জাতীকরণের লক্ষ্যে বিয়ানীবাজারে সভা বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২৯ মে | আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংকে বিভক্তি বিয়ানীবাজারে চিকিৎসক পরিষদের আত্মপ্রকাশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে নতুন নির্দেশনা | কাল খুলছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে প্রবাসীরা হচ্ছেন দেশের নিয়ামক শক্তি | এডভোকেট নাসির উদ্দিন খান

‘আওয়ামী লীগের তারুণ্যবান্ধব ইশতেহারে স্মার্ট বাংলাদেশ’

ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২৩
  • ২২৭ বার পড়া হয়েছে

শেখ হাসিনা স্বনির্ভর অর্থনীতি ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুনিপুণ কারিগর। পদ্মা সেতুর মতো মেগাপ্রকল্প বাস্তব রূপদান তারই প্রমাণ। তার সাহসিকতাই এখন সক্ষমতার বাংলাদেশ। তার উন্নয়ন দর্শন বিশ্বে রোল মডেল। করোনা মোকাবিলায়ও মডেল বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা বাংলাদেশের স্বাধীন উন্নয়নের জনক। কেননা, পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করে উন্নয়নে স্বনির্ভরতা ও স্বাধীনতার স্বাদ তিনিই প্রথম বাংলাদেশকে দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়নে ও অগ্রগতির স্বার্থে যা কিছু করেছেন এ সবই তার দল আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ফসল। স্বাধীনতার বিপক্ষের শক্তি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দুর্নীতিতে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তর একান্তই আওয়ামী লীগের কঠোর প্রচেষ্টার ফসল।

প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনী ইশতেহারে যখন যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অবশ্যই তার বাস্তবায়ন করেছেন। তার প্রতি জনগণের আস্থা ও নির্ভরতা যেমন বেশি, জনগণের প্রতি তার দায়বদ্ধতাও বেশি। দীর্ঘসময় আন্দোলন করে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন আবার দারিদ্র্যমুক্ত করে অর্থনৈতিক মুক্তির পথ তৈরি করেছেন তার নিজস্ব উন্নয়ন দর্শন (রূপকল্প ২০২১, রূপকল্প ২০৪১) দিয়ে। গণতন্ত্র ও উন্নয়নের দেয়াল তৈরি করেছেন তিনি। দেশি-বিদেশি অগণতান্ত্রিক শক্তি বা চক্রান্ত দিয়ে বাংলাদেশের এ দেয়াল আর ভেঙে ফেলা সম্ভব নয়। দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে হলে শেখ হাসিনার মতো নেতৃত্ব ও তার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষাকরণ অপরিহার্য।

উন্নয়নের সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচনী ইশতেহার প্রায় চূড়ান্ত। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ঘোষণা দেবেন দলটির সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। জনগণের সমর্থন এবং স্বাধীনতার মহান শক্তিতে বিশ্বাসী আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার মানেই জনবান্ধব ও তারুণ্যবান্ধব নির্বাচনী ইশতেহার। এবারের তারুণ্যবান্ধব ইশতেহারে থাকছে বেশকিছু চমক। ১৫ বছর আগের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ থেকে এবার ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে তারুণ্যবান্ধব নির্বাচনী ইশতেহারের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এই ইশতেহারে প্রাধান্য পাবে সর্বত্র প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকৃষ্টের জন্য শিল্পায়নেও গুরুত্ব দেওয়া হবে। থাকবে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণের রোডম্যাপও।

প্রতিটি নির্বাচনী ইশতেহারেই জাতির সামনে একটা আশা জাগানিয়া ও অনুপ্রেরণামূলক ¯স্লোগান তুলে ধরে আওয়ামী লীগ। ২০০৮ সালের নির্বাচনে ইশতেহারের ¯ স্লোগান ছিল ‘দিনবদলের সনদ’। ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে ¯ স্লোগান ছিল ‘এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ’। ২০১৮ সালে ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ ¯ স্লোগান ছিল ইশতেহারে। ২০১৮ সালের সেই ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ ইশতেহারে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ ও ২১০০ সালের মধ্যে নিরাপদ ব-দ্বীপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছিল। অতীতের ন্যায় এইবারও তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে তারণ্য নির্ভর একটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি তারুণ্যবান্ধব নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

তথ্য বলছে, এবারের নির্বাচনী ইশতেহারে দেশকে এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মকে কাজে লাগানোর নানা পরিকল্পনার কথা থাকছে। সেই সঙ্গে এবার সমৃদ্ধ বাংলাদেশকে টেকসই উন্নয়নের পথে নিয়ে যেতে প্রদান করা হবে ইশতেহার। তরুণদের কর্মসংস্থান, তরুণ ব্যবসায়ীদের জন্য নানা সুবিধা, উদ্যোক্তাদের জন্য নানা প্রকল্পের বিষয়ও থাকবে আওয়ামী লীগের এবারের ইশতেহারে। অর্থাৎ এবারের ইশতেহারে তরুণদের সম্পদে রূপান্তরিত করতে তরুণদের নিয়ে সকল ভাবনা পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে তুলে ধরা হচ্ছে। খেয়াল করলে দেখা যাবে দিনে দিনে তরুণদের প্রতি নির্ভরতা বেড়েই চলেছে আওয়ামী লীগের। ফলে তরুণদের আকৃষ্ট করতে ¯ স্লোগান তারুণ্য শব্দটি রাখা হয়েছে।

এদিকে সর্বশেষ জনশুমারি বলছে দেশের মোট জনসংখ্যার চার ভাগের এক ভাগ তরুণ। পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যাটাই বেশি। আগামী নির্বাচনে যে কোনো দলের জয় পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে এই তরুণ আর নারী ভোটাররা। তাই নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ ও নারীদের ইসুগুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দেশের হালনাগাদ ভোটার তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ নতুন ভোটার। মোট ভোটার ১১ কোটি ৯০ লাখ ৬১ হাজার। গত মার্চে প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দিয়ে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন ও পরবর্তী সব নির্বাচন হবে। যেখানে পৌনে পাঁচ কোটি তরুণের ভোটার।
উল্লেখ্য, ‘দিন বদলের সনদ’ ২০০৮ সালে ঘোষণার পর ডিজিটাল বাংলাদেশ ব্যবস্থা বাস্তবে পরিণত করার মাধ্যমে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি, কৃষি থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়েছে। বিগত ১৫ বছরে তার বাস্তবিক প্রয়োগ ঘটাতে সক্ষম হয়েছে বর্তমান সরকার। করোনা মহামারি ও ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধে বিশ্ব অর্থনীতি টালমাটাল হওয়ার আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে চাকরির বাজার তৈরি, উদ্যোক্তা তৈরি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম- সব ক্ষেত্রে উন্নতি করেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ‘সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ’ এই ¯ স্লোগান ধারণ করে বিগত ৪ বছরে অধিকাংশ মেগা প্রকল্প উদ্বোধন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। শুধু এক পদ্মা সেতু উদ্বোধন দেশের জিডিপিতে ১.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আনতে সক্ষম হয়েছে।

সত্যিকার অর্থে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার মানেই তা জনবান্ধব, তারুণ্যবান্ধব, উন্নয়ন ও অগ্রগতি সহায়ক। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার মানেই তা স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণবান্ধব। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনী ইশতেহার দিতে যাচ্ছে তা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের তরুণ সমাজকে কাজে লাগিয়ে তাদের উপযুক্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে স্মার্ট নাগরিক সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

স্মার্ট বাংলাদেশের সব কার্যক্রম হবে অনলাইনে। নাগরিকদের ডেটাবেস থাকবে। সে অনুযায়ী জন্মসনদ থেকে শুরু করে স্থানীয় উন্নয়ন সবই হবে অনলাইনে। সমন্বিত তথ্য ভাণ্ডারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব কর্মকাণ্ডের সুবিধা পৌঁছে যাবে সকল নাগরিকের কাছে। এর ফলে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। এ ছাড়া দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণের কথাও থাকবে এ ইশতেহারে। এরই মধ্যে যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের দলের কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। মনোনয়নেও সে অবস্থানের প্রতিফলন ঘটেছে।

এ বিষয়ে জোরালো ভূমিকা রাখার প্রতিশ্রুতি থাকবে আসন্ন ইশতেহারে। মূলত ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট তৈরির পর স্মার্ট বাংলাদেশে হ্যান্ড ক্যাশ নিয়ে কোনো সরকারি সেবার ব্যবস্থা না রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। যার মাধ্যমে দুর্নীতি হ্রাস করাও সম্ভব হবে। নদীভাঙন, নদী ব্যবস্থাপনা, নগর ও গ্রামে পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশনে ডেল্টা পরিকল্পনার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে ইশতেহারে। আগামী ১৬ বছরে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন পরিকল্পনা ও এই বিষয়ক নানা দিক তুলে ধরা হবে, যা ২০৪১ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি, শিক্ষার পাশাপাশি বেকারত্ব হ্রাসের জন্য নানা রকম কর্মসংস্থানের রূপরেখা থাকবে ইশতেহারে। এই ইশতেহারে আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হবে কর্মসংস্থান। কর্মসংস্থানে ইতোমধ্যে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সার কাজ করছে। বাংলাদেশের আইটি সেক্টর যথেষ্টভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে। বাংলাদেশের ইকোনমিক জোনগুলো রেডি হয়েছে। অলরেডি ৩০ বিলিয়ন ডলারের মতো ইনভেস্টমেন্ট চলে এসেছে। এই জিনিসগুলোকে একসাথে করে আগামী নির্বাচনে কর্মসংস্থান ব্যবস্থার দিকেই মূলত আওয়ামী লীগের প্রধান আগ্রহ থাকবে। তরুণদের পাশাপাশি জনসংখ্যার অর্ধেক নারীকে বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় বলে ইশতেহারে নতুন ভোটারের প্রতি নজর দিয়ে তাদের সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও ইশতেহারে গুরুত্ব পাবে কৃষি, সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ছোট ও বড় শিল্পোৎপাদন খাত, আইনের শাসন বাস্তবায়নসহ বেশ কিছু বিষয়।

সুতরাং, অতীতের ন্যায় গণতন্ত্রমনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এবারের নির্বাচনী ইশতেহার সম্পূর্ণভাবে তারুণ্যবান্ধব নির্বাচনী ইশতেহার যা নিঃসন্দেহে একটি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ সহায়ক ইশতেহার। বাংলাদেশের জনগণ বরাবরের মতো এবারও আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের তারুণ্যবান্ধব এই ইশতেহারে উদ্বুদ্ধ হয়ে আওয়ামী লীগকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করে সরকারের ধারাবাহিকতা তথা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে।

[ ড. মোহাম্মদ বদরুজ্জামান ভূঁইয়া : ট্রেজারার, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় এবং অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]
সৌজন্যে: দৈনিক কালবেলা।

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত
প্রযুক্তি সহায়তায়: ইয়োলো হোস্ট